ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :
তিন জেলায় নতুন এসপি নিয়োগ, পুলিশে বড় রদবদল ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নির্দেশ বর্তমান সরকারের অধীনে তথ্য বিভ্রান্তির সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৭১ সালে পাকিস্তানীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা: রিজভী ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে ২৭ আগস্ট সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে আমেরিকান কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানাব শিশু আছিয়া হত্যা: হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু
সার সংকটের আশঙ্কা

কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে

সারের বাজারে নৈরাজ্যের বিষয়টি বহুল আলোচিত। আগামী আমন মৌসুমে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সরবরাহ সঠিকভাবে না হওয়ায় গত কয়েক বছর বিভিন্ন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সারের সংকট দেখা দিয়েছিল। সারের সরবরাহ চেইনে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে আগামী মৌসুমেও কৃষক সঠিক সময়ে সার পাবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আমন মৌসুমে চাষাবাদ নির্বিঘ্ন করতে ইউরিয়া সার আমদানির জন্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সরকারের ভর্তুকির আওতায় যে সার আমদানি করছে, তা পরিবহণ ঠিকাদার কর্তৃক আত্মসাতের ঘটনা ঘটে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সার পরিবহণের জন্য পরিবহণ ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও দুর্নীতির কারণে বারবার সার কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটছে। আগামীতে যাতে জালিয়াতি ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কয়েকজন পরিবহণ ঠিকাদার কর্তৃক প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন সরকারি সার আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছিল।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন সম্প্রতি ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। সাধারণত সব ধরনের পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ এবং নির্ধারিত মুনাফা যোগ করে প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়ার জন্য ৫০ থেকে ৫২ মার্কিন ডলার খরচ নির্ধারণ করা হয়। এবারের টেন্ডারে অস্বাভাবিক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ৬ থেকে ৮ ডলার কমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। এমন কম দর প্রদান যদি প্রকৃত খরচ কাঠামোর নিচে হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে নানা সংকটের কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রেও কোনো কারসাজি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারসাজি ও দুর্নীতি রোধে সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে দুর্ভোগ পোহাতে হবে কৃষককে। কেউ যাতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, কর্তৃপক্ষকে সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণে নানা সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষক যাতে কোনোরকম বঞ্চনার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক ডনের জামিন মেলেনি

সার সংকটের আশঙ্কা

কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে

আপডেট সময় ০৪:৪০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

সারের বাজারে নৈরাজ্যের বিষয়টি বহুল আলোচিত। আগামী আমন মৌসুমে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সরবরাহ সঠিকভাবে না হওয়ায় গত কয়েক বছর বিভিন্ন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সারের সংকট দেখা দিয়েছিল। সারের সরবরাহ চেইনে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে আগামী মৌসুমেও কৃষক সঠিক সময়ে সার পাবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আমন মৌসুমে চাষাবাদ নির্বিঘ্ন করতে ইউরিয়া সার আমদানির জন্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সরকারের ভর্তুকির আওতায় যে সার আমদানি করছে, তা পরিবহণ ঠিকাদার কর্তৃক আত্মসাতের ঘটনা ঘটে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সার পরিবহণের জন্য পরিবহণ ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও দুর্নীতির কারণে বারবার সার কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটছে। আগামীতে যাতে জালিয়াতি ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কয়েকজন পরিবহণ ঠিকাদার কর্তৃক প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন সরকারি সার আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছিল।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন সম্প্রতি ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। সাধারণত সব ধরনের পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ এবং নির্ধারিত মুনাফা যোগ করে প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়ার জন্য ৫০ থেকে ৫২ মার্কিন ডলার খরচ নির্ধারণ করা হয়। এবারের টেন্ডারে অস্বাভাবিক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ৬ থেকে ৮ ডলার কমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। এমন কম দর প্রদান যদি প্রকৃত খরচ কাঠামোর নিচে হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে নানা সংকটের কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রেও কোনো কারসাজি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারসাজি ও দুর্নীতি রোধে সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে দুর্ভোগ পোহাতে হবে কৃষককে। কেউ যাতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, কর্তৃপক্ষকে সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণে নানা সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষক যাতে কোনোরকম বঞ্চনার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।