ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :
কুষ্টিয়ায় পুুকুরে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু মরদেহ ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবী পরিবারের চল্লিশ উর্ধ বয়সী স্কাউটারদের পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে যাত্রা বেইলি রোডে আগুনে প্রাণ গেল ২ সাংবাদিকের কাচ্চি ভাই নয়, নিচের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত: র‌্যাব বেইলি রোডে আগুন: মৃতের সংখ্যা বাড়ার কারণ জানালেন চিকিৎসক ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামের নির্মাণাধীন হিমাগারের আগুন বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রপতির শোক বেইলি রোডের আগুন লাগা বহুতল ভবনটিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না: প্রধানমন্ত্রী ভবনে ভেন্টিলেশন ছিল না, নিহতরা ধোঁয়ায় মারা গেছেন
সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রিই বৃষ্টি খাতুন

মরদেহ ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবী পরিবারের

রাজধানীর বেইলী রোডে ভবনে আগুনে পুড়ে নিহত সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রির পরিচয় নিয়ে জটিলতা যেন কাটছেই না। তবে তিনিই যে কুষ্টিয়ার বৃষ্টি খাতুন তা নিয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। অনুসন্ধানে এমনই তথ্য মিলেছে। শনিবার দিনভর এনিয়ে অনুসন্ধান চালায় চ্যানেল২৪। দুপুর ১২টার দিকে তাদের নিজ বাড়ি অর্থাৎ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া গ্রামে গেলে দেখা যায় সেখানে শোকের মাতম চলছে। বিলাপ করছেন মা বিউটি পারভীন। আর পাশে অঝরে ঝরছে ছোট দুই বোন ঝর্ণা আর বর্ষার চোখে। নিকটাত্মীয় পাড়া প্রতিবেশীরা তাদেরকে শান্তনা জানাচ্ছেন। এমন পরিস্তিতিতে তাদের সাথে কথা বলতেও সংকোচ বোধ হচ্ছিল। এরই মধ্যে সুযোগ বুঝে কথা হলো বৃষ্টির সাথে। তার কাছে জানতে চাওয়া বৃষ্টির নাম পরিচয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে বিষয়টি আসলে কী? অশ্রুসিক্ত কন্ঠে তার জবাব। বৃষ্টি আমার আদরের বড় বোন। এরচেয়ে বড় পরিচয় আর কিইবা হতে পারে। তবে প্রমাণ হিসেবে অনেক কিছুই উপস্থাপন করলেন তিনি।

এসএসসি’র রেজিষ্ট্রেশন কার্ড, এনআইডি’র ফটোকপি, ইন্টার মিডিয়েট পরীক্ষার সনদ। তার সব কিছুতেই বৃষ্টি খাতুনের নাম রয়েছে। বাবার নাম সবুজ শেখ। এরই মধ্যে ভোট বোন বর্ষা খাতুনও আসেন আমার কাছে। বড় বোন বৃষ্টির সাথে তার নানা স্মৃতিময় তথ্য বলতে থাকেন। গোটা পাড়াই যেন শোকাচ্ছন আবহ। গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে অনেকেই এগিয়ে আসেন। বৃষ্টির পরিচয় নিয়ে যা হচ্ছে তা ঠিক নয় দাবী তাদের। এরই মধ্যে সুযোগ হয় বৃষ্টির মা(অভিশ্রুতি শাস্ত্রি)র সাথে। কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিছু বলার আগেই তিনি বলেন বৃষ্টি আমার মেয়ে। সে অন্যকারো মেয়ে হতে পারেনা। আমার বুক চিরে প্রয়োজনে পরীক্ষা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন মা। আমি তার কাছে আমার মেয়েকে ফেরত চাওয়ার আকুতি জানাচ্ছি। দয়া করে যেন আমার মেয়েকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন। এভাবেই বেশ কিছু সময় বিলাপ করতে থাকেন তিনি। প্রতিবেশীদেরও একই কথা রাজধানীয় ঢাকায় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া সাংবাদিক আমাদেরই সন্তান। বৃষ্টি প্রাথমকি শিক্ষা নিয়েছিলেন বনগ্রাম ব্র্যাক স্কুলে। ছয় বছর বয়সে তিনি ব্র্যাক স্কুলে ভর্তি হন। ২০০৯ সালে সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এমনটিই জানান শিক্ষক মিলিয়া পারভীন। জন্মের পর থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন চাচী শাহিদা পারভীন। তার কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানান বৃষ্টি অধিকাংশ সময় তার কাছে থাকত।
কথা হয় বেদবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের সাথে। একই সাথে তিনি বনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও। তিনি জানান রাজধানী ঢাকায় বেইলী রোডে একটি ভবনে যে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে মারা গেছেন আমাদের মেয়ে বৃষ্টি। গণমাধ্যমে তার নাম শোনা যাচ্ছে অভিশ্রুতি শাস্ত্রি। তার বাড়ি বনগ্রাম পশ্চিম পাড়ায়। বাবার নাম সবুজ শেখ। মা বিউটি বেগম। জন্ম নিবন্ধনও তার পরিষদ থেকেই নেয়া। এনআইডিও একই নামে। এনআইডি’র তথ্যমতে বৃষ্টির পুরো নাম বৃষ্টি খাতুন। জন্ম ১৯৯৮ সালের ৯মার্চ। বাবার নাম সবুজ শেখ এবং মাতার নাম বিউটি বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৫১০৪৯৮০৬৮৪, ভোটার নাম্বার-৫০১১৮৫০০০১৬৬, ভোটার এরিয়া কোর্ড ৫০১১৮৫,সিরিয়ার নাম্বার-৩৬৪, ভোটার এলাকা-বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া। এনআইডিতে লিঙ্গ পরিচয় অবিবাহিত, ধর্ম-ইসলাম, রক্তের গ্রুপ-(ও+), জন্মস্থান কুষ্টিয়া।


চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম আরো জানান মাস তিনেক আগেও বৃষ্টির সাথে ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় তার সাথে দেখা হয়। আমি তার সাথে ছবিও তুলি। যে ছবি আমার কাছে রয়েছে।
বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর আব্দুল মজিদ জানান বৃষ্টি আমাদের ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা। একই গ্রামে বাড়ি। সমাজ জামাতও একই সাথে করি আমরা। তিনি যে আমাদের এলাকার বাসিন্দা তাতে কোন সন্দেহ নেই। তারা সবাই মুসলিম মুসলিম পরিবারেই তার জন্ম।
এদিকে আইনী জটিলতায় বৃষ্টির মরদেহ ছাড় না পাওয়ায় মর্মাহত বৃষ্টির পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুতই সকল জটিলতা কাটিয়ে তার মরদেহ ফেরত চান।

দৌলতপুরে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরন

সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রিই বৃষ্টি খাতুন

মরদেহ ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবী পরিবারের

আপডেট সময় ১১:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪

রাজধানীর বেইলী রোডে ভবনে আগুনে পুড়ে নিহত সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রির পরিচয় নিয়ে জটিলতা যেন কাটছেই না। তবে তিনিই যে কুষ্টিয়ার বৃষ্টি খাতুন তা নিয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। অনুসন্ধানে এমনই তথ্য মিলেছে। শনিবার দিনভর এনিয়ে অনুসন্ধান চালায় চ্যানেল২৪। দুপুর ১২টার দিকে তাদের নিজ বাড়ি অর্থাৎ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া গ্রামে গেলে দেখা যায় সেখানে শোকের মাতম চলছে। বিলাপ করছেন মা বিউটি পারভীন। আর পাশে অঝরে ঝরছে ছোট দুই বোন ঝর্ণা আর বর্ষার চোখে। নিকটাত্মীয় পাড়া প্রতিবেশীরা তাদেরকে শান্তনা জানাচ্ছেন। এমন পরিস্তিতিতে তাদের সাথে কথা বলতেও সংকোচ বোধ হচ্ছিল। এরই মধ্যে সুযোগ বুঝে কথা হলো বৃষ্টির সাথে। তার কাছে জানতে চাওয়া বৃষ্টির নাম পরিচয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে বিষয়টি আসলে কী? অশ্রুসিক্ত কন্ঠে তার জবাব। বৃষ্টি আমার আদরের বড় বোন। এরচেয়ে বড় পরিচয় আর কিইবা হতে পারে। তবে প্রমাণ হিসেবে অনেক কিছুই উপস্থাপন করলেন তিনি।

এসএসসি’র রেজিষ্ট্রেশন কার্ড, এনআইডি’র ফটোকপি, ইন্টার মিডিয়েট পরীক্ষার সনদ। তার সব কিছুতেই বৃষ্টি খাতুনের নাম রয়েছে। বাবার নাম সবুজ শেখ। এরই মধ্যে ভোট বোন বর্ষা খাতুনও আসেন আমার কাছে। বড় বোন বৃষ্টির সাথে তার নানা স্মৃতিময় তথ্য বলতে থাকেন। গোটা পাড়াই যেন শোকাচ্ছন আবহ। গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে অনেকেই এগিয়ে আসেন। বৃষ্টির পরিচয় নিয়ে যা হচ্ছে তা ঠিক নয় দাবী তাদের। এরই মধ্যে সুযোগ হয় বৃষ্টির মা(অভিশ্রুতি শাস্ত্রি)র সাথে। কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিছু বলার আগেই তিনি বলেন বৃষ্টি আমার মেয়ে। সে অন্যকারো মেয়ে হতে পারেনা। আমার বুক চিরে প্রয়োজনে পরীক্ষা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন মা। আমি তার কাছে আমার মেয়েকে ফেরত চাওয়ার আকুতি জানাচ্ছি। দয়া করে যেন আমার মেয়েকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন। এভাবেই বেশ কিছু সময় বিলাপ করতে থাকেন তিনি। প্রতিবেশীদেরও একই কথা রাজধানীয় ঢাকায় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া সাংবাদিক আমাদেরই সন্তান। বৃষ্টি প্রাথমকি শিক্ষা নিয়েছিলেন বনগ্রাম ব্র্যাক স্কুলে। ছয় বছর বয়সে তিনি ব্র্যাক স্কুলে ভর্তি হন। ২০০৯ সালে সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এমনটিই জানান শিক্ষক মিলিয়া পারভীন। জন্মের পর থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন চাচী শাহিদা পারভীন। তার কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানান বৃষ্টি অধিকাংশ সময় তার কাছে থাকত।
কথা হয় বেদবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের সাথে। একই সাথে তিনি বনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও। তিনি জানান রাজধানী ঢাকায় বেইলী রোডে একটি ভবনে যে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে মারা গেছেন আমাদের মেয়ে বৃষ্টি। গণমাধ্যমে তার নাম শোনা যাচ্ছে অভিশ্রুতি শাস্ত্রি। তার বাড়ি বনগ্রাম পশ্চিম পাড়ায়। বাবার নাম সবুজ শেখ। মা বিউটি বেগম। জন্ম নিবন্ধনও তার পরিষদ থেকেই নেয়া। এনআইডিও একই নামে। এনআইডি’র তথ্যমতে বৃষ্টির পুরো নাম বৃষ্টি খাতুন। জন্ম ১৯৯৮ সালের ৯মার্চ। বাবার নাম সবুজ শেখ এবং মাতার নাম বিউটি বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৫১০৪৯৮০৬৮৪, ভোটার নাম্বার-৫০১১৮৫০০০১৬৬, ভোটার এরিয়া কোর্ড ৫০১১৮৫,সিরিয়ার নাম্বার-৩৬৪, ভোটার এলাকা-বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া। এনআইডিতে লিঙ্গ পরিচয় অবিবাহিত, ধর্ম-ইসলাম, রক্তের গ্রুপ-(ও+), জন্মস্থান কুষ্টিয়া।


চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম আরো জানান মাস তিনেক আগেও বৃষ্টির সাথে ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় তার সাথে দেখা হয়। আমি তার সাথে ছবিও তুলি। যে ছবি আমার কাছে রয়েছে।
বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর আব্দুল মজিদ জানান বৃষ্টি আমাদের ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা। একই গ্রামে বাড়ি। সমাজ জামাতও একই সাথে করি আমরা। তিনি যে আমাদের এলাকার বাসিন্দা তাতে কোন সন্দেহ নেই। তারা সবাই মুসলিম মুসলিম পরিবারেই তার জন্ম।
এদিকে আইনী জটিলতায় বৃষ্টির মরদেহ ছাড় না পাওয়ায় মর্মাহত বৃষ্টির পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুতই সকল জটিলতা কাটিয়ে তার মরদেহ ফেরত চান।