ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জালিয়াতি, দালালে ইতালির ভিসাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি

জালিয়াতি ও দালালদের কারণে ভুগছেন ইতালির ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশি কর্মীরা। দেশটিতে কাজের অনুমতি (নুলাওস্তা) পেয়েও ভিসা আবেদন করার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ছয়-সাত মাস লাগছে। ঢাকায় ইতালি দূতাবাস গতকাল মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নুলাওস্তার মেয়াদ শেষ হবে না। ভিসাপ্রত্যাশীদের ভীত হওয়ার কারণ নেই।

ভুক্তভোগীরা জানান, ইতালিতে থাকা দালালরা ‘সুপার এডিট’ করে জাল নুলাওস্তা দিচ্ছে। আবার ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় দালালরা নিচ্ছে টাকা। ঘাটতি রয়েছে ভিসা সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানেরও। এ তিন কারণে ভুগছেন ভিসাপ্রত্যাশীরা। অন্তত সোয়া এক লাখ ভিসাপ্রত্যাশীর পাসপোর্ট আটকে রয়েছে ঢাকায় ইতালি দূতাবাস এবং ভিসা সেবা দেওয়া ভিএফএস গ্লোবাল নামের তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের কাছে।

সমস্যার সমাধানে গতকাল মঙ্গলবার প্রবাসীকল্যাণ ভবনে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, ইতালি দূতাবাসও কর্মীদের ভিসা দিতে উদ্গ্রীব। কিন্তু অনেকে ভিসা আবেদনের সঙ্গে ভুয়া তথ্য-উপাত্ত দিচ্ছেন। তা যাচাইয়ে অনেক সময় লাগছে। বিশ্বাস করার কারণ আছে যে, দালালরা অনেক বেশি টাকা নেয় ভিসাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে, যা কাম্য নয়।

রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ চলছে। ভিসা সাক্ষাতের বুকিং পদ্ধতি নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে। ভিসা আবেদনের বিষয়ে দূতাবাস চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত নুলাওস্তার মেয়াদ থাকবে। রাষ্ট্রদূত ভিসাপ্রত্যাশীদের অনুরোধ করেন, দালালদের প্রলোভনে না পড়তে। তিনি বলেন, অনেক দালাল হয়তো বলবে টাকা দিলে ভিসা হয়ে যাবে। এতে বিশ্বাস করবেন না। এমন কোনো সুযোগ নেই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভিসাপ্রত্যাশীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়– এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, একসঙ্গে অনেক আবেদন; তাই সময় লাগছে। ইতালি বৈধ পথে কর্মী নিতে আগ্রহী। ৭ লাখ কর্মী নেবে। কবে কীভাবে এসব কর্মী নেবে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রসঙ্গ পাল্টে শফিকুল রহমান বলেন, এ বিষয়ে পরে কথা হবে। রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ থেকে বৈধ অভিবাসনের পরিধি বৃদ্ধিতে আগ্রহী ইতালি।

ইতালিতে কৃষি কাজের চাকরির মেয়াদ ৯ মাস। কিন্তু নুলাওস্তা পাওয়ার পর ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ছয়-সাত মাস লেগে যাচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ ভিসাপ্রত্যাশীরা গত ২৭ মার্চ এবং ২২ এপ্রিল গুলশানে ইতালি দূতাবাসের সামনে মানববন্ধন করেন। তাদের অভিযোগ, ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করে কাজের অনুমতি পাওয়ার পরও ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না ভিএফএস থেকে।

ভিএফএস গ্লোবাল তখন বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানিয়েছিল, দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং পদ্ধ‌তি নি‌য়ে কাজ চলছে। ভিসাপ্রত্যাশী রনক ভূঁইয়া মঙ্গলবার সমকালকে বলেন, দূতাবাসের ই-মেইলে জন্ম তারিখ, পাসপোর্ট নম্বর এবং নুলাওস্তার নম্বর দিয়ে ভিসা আবেদন নেওয়া হচ্ছে গত ৩১ মার্চ থেকে। গত ২ মে থেকে অ্যাপয়ন্টমেন্ট দেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, দালালরা একই নুলাওস্তা ১০ জনকে পাঠিয়েছে সুপার এডিট করে। সবার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে ৫ লাখ টাকা করে। যাদের কাজের অনুমতি জাল, তারা ভিসা পাচ্ছেন না। অন্যরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ভিসাপ্রত্যাশীরা জানান, ভিসা আবেদন করার আগে জানার সুযোগ নেই নুলাওস্তা জাল নাকি আসল। দূতাবাস ছাড়া অন্য কেউ তা যাচাই করতে পারে না। এ সুযোগ নিয়ে দালাল জাল নুলাওস্তা দিয়ে টাকা নিচ্ছে। এতে অনেকে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অনেক কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাকরি করতেন। ইতালি যেতে দেশে ফেরেন। স্পন্সর ভিসা নিয়ে ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে, দেড় থেকে দুই বছর পার হলেও পাসপোর্ট, ভিসা– কোনোটাই পাননি। একদিকে ইতালিতে কাজের অনুমতির মেয়াদ ফুরিয়েছে; অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কাজের অনুমতির মেয়াদও শেষ।

জালিয়াতি, দালালে ইতালির ভিসাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি

আপডেট সময় ১২:২৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪

জালিয়াতি ও দালালদের কারণে ভুগছেন ইতালির ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশি কর্মীরা। দেশটিতে কাজের অনুমতি (নুলাওস্তা) পেয়েও ভিসা আবেদন করার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ছয়-সাত মাস লাগছে। ঢাকায় ইতালি দূতাবাস গতকাল মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নুলাওস্তার মেয়াদ শেষ হবে না। ভিসাপ্রত্যাশীদের ভীত হওয়ার কারণ নেই।

ভুক্তভোগীরা জানান, ইতালিতে থাকা দালালরা ‘সুপার এডিট’ করে জাল নুলাওস্তা দিচ্ছে। আবার ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় দালালরা নিচ্ছে টাকা। ঘাটতি রয়েছে ভিসা সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানেরও। এ তিন কারণে ভুগছেন ভিসাপ্রত্যাশীরা। অন্তত সোয়া এক লাখ ভিসাপ্রত্যাশীর পাসপোর্ট আটকে রয়েছে ঢাকায় ইতালি দূতাবাস এবং ভিসা সেবা দেওয়া ভিএফএস গ্লোবাল নামের তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের কাছে।

সমস্যার সমাধানে গতকাল মঙ্গলবার প্রবাসীকল্যাণ ভবনে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, ইতালি দূতাবাসও কর্মীদের ভিসা দিতে উদ্গ্রীব। কিন্তু অনেকে ভিসা আবেদনের সঙ্গে ভুয়া তথ্য-উপাত্ত দিচ্ছেন। তা যাচাইয়ে অনেক সময় লাগছে। বিশ্বাস করার কারণ আছে যে, দালালরা অনেক বেশি টাকা নেয় ভিসাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে, যা কাম্য নয়।

রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ চলছে। ভিসা সাক্ষাতের বুকিং পদ্ধতি নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে। ভিসা আবেদনের বিষয়ে দূতাবাস চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত নুলাওস্তার মেয়াদ থাকবে। রাষ্ট্রদূত ভিসাপ্রত্যাশীদের অনুরোধ করেন, দালালদের প্রলোভনে না পড়তে। তিনি বলেন, অনেক দালাল হয়তো বলবে টাকা দিলে ভিসা হয়ে যাবে। এতে বিশ্বাস করবেন না। এমন কোনো সুযোগ নেই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভিসাপ্রত্যাশীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়– এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, একসঙ্গে অনেক আবেদন; তাই সময় লাগছে। ইতালি বৈধ পথে কর্মী নিতে আগ্রহী। ৭ লাখ কর্মী নেবে। কবে কীভাবে এসব কর্মী নেবে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রসঙ্গ পাল্টে শফিকুল রহমান বলেন, এ বিষয়ে পরে কথা হবে। রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ থেকে বৈধ অভিবাসনের পরিধি বৃদ্ধিতে আগ্রহী ইতালি।

ইতালিতে কৃষি কাজের চাকরির মেয়াদ ৯ মাস। কিন্তু নুলাওস্তা পাওয়ার পর ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ছয়-সাত মাস লেগে যাচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ ভিসাপ্রত্যাশীরা গত ২৭ মার্চ এবং ২২ এপ্রিল গুলশানে ইতালি দূতাবাসের সামনে মানববন্ধন করেন। তাদের অভিযোগ, ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করে কাজের অনুমতি পাওয়ার পরও ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না ভিএফএস থেকে।

ভিএফএস গ্লোবাল তখন বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানিয়েছিল, দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং পদ্ধ‌তি নি‌য়ে কাজ চলছে। ভিসাপ্রত্যাশী রনক ভূঁইয়া মঙ্গলবার সমকালকে বলেন, দূতাবাসের ই-মেইলে জন্ম তারিখ, পাসপোর্ট নম্বর এবং নুলাওস্তার নম্বর দিয়ে ভিসা আবেদন নেওয়া হচ্ছে গত ৩১ মার্চ থেকে। গত ২ মে থেকে অ্যাপয়ন্টমেন্ট দেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, দালালরা একই নুলাওস্তা ১০ জনকে পাঠিয়েছে সুপার এডিট করে। সবার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে ৫ লাখ টাকা করে। যাদের কাজের অনুমতি জাল, তারা ভিসা পাচ্ছেন না। অন্যরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ভিসাপ্রত্যাশীরা জানান, ভিসা আবেদন করার আগে জানার সুযোগ নেই নুলাওস্তা জাল নাকি আসল। দূতাবাস ছাড়া অন্য কেউ তা যাচাই করতে পারে না। এ সুযোগ নিয়ে দালাল জাল নুলাওস্তা দিয়ে টাকা নিচ্ছে। এতে অনেকে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অনেক কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাকরি করতেন। ইতালি যেতে দেশে ফেরেন। স্পন্সর ভিসা নিয়ে ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে, দেড় থেকে দুই বছর পার হলেও পাসপোর্ট, ভিসা– কোনোটাই পাননি। একদিকে ইতালিতে কাজের অনুমতির মেয়াদ ফুরিয়েছে; অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কাজের অনুমতির মেয়াদও শেষ।