ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জানুয়ারিতেই কলকাতায় আনোয়ারুলকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
  • 7

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতায় গাড়ির মধ্যে খুনের পরিকল্পনা হয়েছিল। ১৮ জানুয়ারি তাঁকে খুন করে কলকাতার বর্জ্যখালে ফেলে দেওয়ার চিন্তা ছিল খুনিদের। কিন্তু আনোয়ারুল সেদিন কলকাতায় না গিয়ে ১৯ জানুয়ারি যাওয়াতে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এ জন্য মে মাসে ব্যবসায়িক আলোচনার কথা বলে তাঁকে কলকাতায় ডেকে নিয়েছিলেন আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন।

কলকাতায় ১৩ মে খুন হন আনোয়ারুল আজীম। এ ঘটনায় দুই দেশে গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, ভ্রমণসংক্রান্ত রেকর্ড, ডিজিটাল প্রমাণাদিসহ তদন্তে পাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সংসদ সদস্যকে হত্যার বিষয়ে একটা চিত্র পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্তসার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়, সংসদ সদস্যের আনোয়ারুলের বন্ধু আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন। দুজনেরই কলকাতায় সোনার ব্যবসা থাকার জনশ্রুতি আছে। তাঁরা যে ব্যবসা করতেন, সেগুলোর টাকাপয়সার লেনদেন নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই আনোয়ারুলকে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় (ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে) খুন করার পরিকল্পনা ছিল আক্তারুজ্জামান ও শিমুল ভূঁইয়াদের। এ জন্য আনোয়ারুল আজীমের ওপর নজরদারি করতে বাদল নামের এক ব্যক্তিকে নিযুক্ত করেছিলেন আক্তারুজ্জামান। কিন্তু সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যকে দেশের ভেতরে খুন করে পার পাওয়া যাবে না, এমন চিন্তা থেকে পরে ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসা হয়। পরে আনোয়ারুলকে কলকাতায় নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করেন। আক্তারুজ্জামানের ধারণা ছিল, কলকাতায় খুন করলে সবাই ধরে নেবে সেখানকার ব্যবসায়িক সহযোগীরা আনোয়ারুলকে খুন করেছেন। এ জন্য ১৮ জানুয়ারি কলকাতায় গাড়ির ভেতর খুন করার পরিকল্পনা করা হয়। তাঁদের ছক ছিল আক্তারুজ্জামান গাড়ি চালাবেন, আনোয়ারুল তাঁর পাশে সামনের আসনে বসবেন। গাড়ির পেছনে থাকবেন শিমুল ভূঁইয়া, সিয়াম হোসেন ও জিহাদ হাওলাদার। গাড়িতে খুনের পর লাশ বর্জ্যখালে ফেলে দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি আক্তারুজ্জামান ও শিমুল ভূঁইয়া কলকাতায় গিয়েছিলেন। তবে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল সে দিন আর যাননি, তিনি যান পরদিন। ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পেরে শিমুল ভূঁইয়া ১৯ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। আক্তারুজ্জামান ফেরেন ৩০ জানুয়ারি। আর আনোয়ারুল আজীম ফিরেছিলেন ২৪ জানুয়ারি।

শাটডাউন কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থন

জানুয়ারিতেই কলকাতায় আনোয়ারুলকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল

আপডেট সময় ১১:৩৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতায় গাড়ির মধ্যে খুনের পরিকল্পনা হয়েছিল। ১৮ জানুয়ারি তাঁকে খুন করে কলকাতার বর্জ্যখালে ফেলে দেওয়ার চিন্তা ছিল খুনিদের। কিন্তু আনোয়ারুল সেদিন কলকাতায় না গিয়ে ১৯ জানুয়ারি যাওয়াতে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এ জন্য মে মাসে ব্যবসায়িক আলোচনার কথা বলে তাঁকে কলকাতায় ডেকে নিয়েছিলেন আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন।

কলকাতায় ১৩ মে খুন হন আনোয়ারুল আজীম। এ ঘটনায় দুই দেশে গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, ভ্রমণসংক্রান্ত রেকর্ড, ডিজিটাল প্রমাণাদিসহ তদন্তে পাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সংসদ সদস্যকে হত্যার বিষয়ে একটা চিত্র পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্তসার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়, সংসদ সদস্যের আনোয়ারুলের বন্ধু আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন। দুজনেরই কলকাতায় সোনার ব্যবসা থাকার জনশ্রুতি আছে। তাঁরা যে ব্যবসা করতেন, সেগুলোর টাকাপয়সার লেনদেন নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই আনোয়ারুলকে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় (ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে) খুন করার পরিকল্পনা ছিল আক্তারুজ্জামান ও শিমুল ভূঁইয়াদের। এ জন্য আনোয়ারুল আজীমের ওপর নজরদারি করতে বাদল নামের এক ব্যক্তিকে নিযুক্ত করেছিলেন আক্তারুজ্জামান। কিন্তু সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যকে দেশের ভেতরে খুন করে পার পাওয়া যাবে না, এমন চিন্তা থেকে পরে ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসা হয়। পরে আনোয়ারুলকে কলকাতায় নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করেন। আক্তারুজ্জামানের ধারণা ছিল, কলকাতায় খুন করলে সবাই ধরে নেবে সেখানকার ব্যবসায়িক সহযোগীরা আনোয়ারুলকে খুন করেছেন। এ জন্য ১৮ জানুয়ারি কলকাতায় গাড়ির ভেতর খুন করার পরিকল্পনা করা হয়। তাঁদের ছক ছিল আক্তারুজ্জামান গাড়ি চালাবেন, আনোয়ারুল তাঁর পাশে সামনের আসনে বসবেন। গাড়ির পেছনে থাকবেন শিমুল ভূঁইয়া, সিয়াম হোসেন ও জিহাদ হাওলাদার। গাড়িতে খুনের পর লাশ বর্জ্যখালে ফেলে দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি আক্তারুজ্জামান ও শিমুল ভূঁইয়া কলকাতায় গিয়েছিলেন। তবে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল সে দিন আর যাননি, তিনি যান পরদিন। ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পেরে শিমুল ভূঁইয়া ১৯ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। আক্তারুজ্জামান ফেরেন ৩০ জানুয়ারি। আর আনোয়ারুল আজীম ফিরেছিলেন ২৪ জানুয়ারি।