ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাত, ১০ জনের মৃত্যু, দেড় লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

দেশের ১৯টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে । এতে ছয় জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬ জন মানুষ। এছাড়া প্রায় ৩৫ হাজার ৪৮৩ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯২ ঘরবাড়ি।

২৭ মে, সোমবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

ঘূর্ণিঝড়ে মোট ১৯টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে রয়েছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ফেনী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর এবং যশোর। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সংখ্যা ১০৭টি এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভার সংখ্যা ৯১৪টি।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের ৬ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা সহযোগিতার জন্য দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ টি জেলায় জিআর ৩ কোটি ৮৫ লাখ নগদ টাকা। ৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার। এছাড়া শিশু খাদ্য কেনার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে। এসব সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্তের মোবাইল অ্যাকাউন্টে যাবে। বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

মন্ত্রী আরো বলেন, চিকিৎসাসেবা দিতে ১ হাজার ৪৭১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে চালু আছে ১ হাজার ৪০০ টিম। দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সব মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে কাজ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহে ৯ হাজার ৪২৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে বা স্থায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, মঙ্গলবার (২৮ মে) পর্যন্ত সারাদেশেই বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া থাকবে। এদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ক্রমান্বয়ে সিলেট দিয়ে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যাবে।

এ সময় ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রধান ড. শামীম হাসান ভূঁইয়া জানান, আগামীকাল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি থাকবে। তাই, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে জনভোগান্তি শিগগিরই কমছে না।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি রোববার রাত ৮টার দিকে উপকূলে আঘাত করে। এদিকে, সোমবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শক্তি হারিয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল স্থল গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে।

বৃষ্টির পরিমাণ বাড়িয়ে তা স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে। পাশাপাশি বন্দরগুলোকে মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে স্থানীয় সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সোমবার ঢাকায় ১২৫, চট্টগ্রামে ১৩৮ ও কক্সবাজারে ১৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাত, ১০ জনের মৃত্যু, দেড় লাখ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

আপডেট সময় ০৬:৫৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

দেশের ১৯টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে । এতে ছয় জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬ জন মানুষ। এছাড়া প্রায় ৩৫ হাজার ৪৮৩ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯২ ঘরবাড়ি।

২৭ মে, সোমবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

ঘূর্ণিঝড়ে মোট ১৯টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে রয়েছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ফেনী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর এবং যশোর। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সংখ্যা ১০৭টি এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভার সংখ্যা ৯১৪টি।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের ৬ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা সহযোগিতার জন্য দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ টি জেলায় জিআর ৩ কোটি ৮৫ লাখ নগদ টাকা। ৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার। এছাড়া শিশু খাদ্য কেনার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে। এসব সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্তের মোবাইল অ্যাকাউন্টে যাবে। বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

মন্ত্রী আরো বলেন, চিকিৎসাসেবা দিতে ১ হাজার ৪৭১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে চালু আছে ১ হাজার ৪০০ টিম। দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সব মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে কাজ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহে ৯ হাজার ৪২৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে বা স্থায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, মঙ্গলবার (২৮ মে) পর্যন্ত সারাদেশেই বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া থাকবে। এদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ক্রমান্বয়ে সিলেট দিয়ে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যাবে।

এ সময় ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রধান ড. শামীম হাসান ভূঁইয়া জানান, আগামীকাল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি থাকবে। তাই, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে জনভোগান্তি শিগগিরই কমছে না।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি রোববার রাত ৮টার দিকে উপকূলে আঘাত করে। এদিকে, সোমবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শক্তি হারিয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল স্থল গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে।

বৃষ্টির পরিমাণ বাড়িয়ে তা স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে। পাশাপাশি বন্দরগুলোকে মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে স্থানীয় সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সোমবার ঢাকায় ১২৫, চট্টগ্রামে ১৩৮ ও কক্সবাজারে ১৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।