ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উপজেলা নির্বাচন : নানা শঙ্কায় কাল ১৫৭ উপজেলায় ভোট

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪
  • 7

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। রাত পোহালেই আগামীকাল মঙ্গলবার ১৫৭টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ধাপেও প্রচার ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত, হুমকি, আচরণবিধি লঙ্ঘন, সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোটের দিনও সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকে। স্থানীয় এমপি ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করে কতটুকু সুষ্ঠু ভোট সম্ভব হবে—সেটি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোনো কোনো প্রার্থী। অন্যদিকে অনেকটা একতরফা এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কতটা ভোটকেন্দ্রে আনা যাবে, তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ ও সংশয়ে রয়েছেন।

তবে সুষ্ঠু ভোটের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। ছোটখাটো যেসব সমস্যা মাঠে আছে, সেগুলো যাতে না হয়, সেজন্য প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। আর প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদী কমিশন।

নিয়ম অনুযায়ী, ৩৬ ঘণ্টা আগেই ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়। সে অনুযায়ী রোববার মধ্যরাতেই প্রথম ধাপের প্রচার শেষ হয়েছে। এরপর পোলিং এজেন্ট নিয়োগসহ শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন প্রার্থীরা। সেইসঙ্গে তৃতীয় ধাপের প্রার্থীরাও এরই মধ্যে প্রচারে নেমে পড়েছেন। আর চতুর্থ ধাপের ভোট নিয়েও অনানুষ্ঠানিক প্রচারে রয়েছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

প্রথম ধাপের নির্বাচনের জেরে গোপালগঞ্জ সদর ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার এ নির্বাচন ঘিরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সাইদুর রহমানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। গত শুক্রবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এক প্রার্থীর দুই সমর্থক আহত হন। অনেক জায়গায় প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গতকাল ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা, সংঘর্ষ ও নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে ১৬১টি উপজেলা নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে ইসি। এর মধ্যে ধাপ পরিবর্তন, মামলাসহ বিভিন্ন কারণে চারটিতে এ ধাপে ভোট হচ্ছে না। বাকি ১৫৭ উপজেলায় ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে তারা সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী ধাপগুলোর জন্যও একইভাবে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেবে ইসি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, চার ধাপের উপজেলা নির্বাচনের সব ধাপেই দুর্গম কেন্দ্রে আগের দিন ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। অন্যগুলোতে ব্যালট যাবে ভোটের দিন সকালে। মাঠ প্রশাসন থেকে দুর্গম এলাকা চিহ্নিত করে প্রতিবেদন পাঠালে নির্বাচন কমিশন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েক বছর ধরে ভোটে কারচুপি রোধ করতে আগের রাতে ব্যালট না পাঠিয়ে সকালে পাঠাচ্ছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য থাকবেন। এর আগে কখনো এত বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ভোটকেন্দ্রে ছিলেন না বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিটি স্বাভাবিক কেন্দ্রে অস্ত্রসহ তিন পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসারের পিসি ও এপিসি থাকবেন তিনজন। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সশস্ত্র ছয়জন সদস্য থাকবেন। প্রতিটি বুথ ব্যবস্থাপনার জন্য সর্বনিম্ন ১০ আনসার সদস্য থাকবেন এবং ছয়টির বেশি বুথ আছে এমন জায়গাগুলোতে একজন করে অতিরিক্ত আনসার থাকবে। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ চার পুলিশ সদস্য থাকবেন। আনসার থাকবে তিনজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ২০ থেকে ২১ সদস্য থাকবেন। এবার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকছেন। প্রতিটি উপজেলায়ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। ভোটের আগের দিন ও পরের দিন পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। গড়ে পাঁচটি সেন্টারের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল ফোর্স থাকবে। আনসার, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে এই মোবাইল ফোর্স গঠন করা হয়েছে। আর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিজিবির বদলে কোস্টগার্ড বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। সব বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ ৯৯৯ এর মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি অভিযোগ আসার পর কারা তা দেখবে, তাও ট্র্যাকিং করা হবে। নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে গতকাল থেকেই ৪৫৭ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নেমেছে। বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (মিডিয়া) শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিটি উপজেলায় দুই থেকে চার প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। গত ৮ মে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ভোটেও একইভাবে দায়িত্ব পালন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ভাঙ্গায় কাজী জাফরউল্লাহ সমর্থিত প্রার্থীর উঠান বৈঠকে হামলা-গাড়ি ভাঙচুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর সমর্থিত প্রার্থী মোখলেছুর রহমান সুমনের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এমপি নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় চারটি গাড়ি ও বেশ কিছু চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। এ সময় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত ৯টায় ভাঙ্গার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ব্রাহ্মণকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল মাঠে প্রার্থী মোখলেছুর রহমান সুমনের নির্বাচনী উঠান বৈঠক চলছিল। তখন নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক ইয়াকুব মাতুব্বর, তুহিন ও আক্কাস এর নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন অতর্কিত হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল, নির্বাচনের মাইক ও চারটি গাড়ি ভাঙচুর করেন।

ভাঙ্গা থানার ওসি মামুন আল রশিদ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় গতকাল রোববার প্রার্থীর ভাই মোতালেব মাতুব্বর বাদী হয়ে ইয়াকুব মাতুব্বরসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

কুড়িগ্রামে সংঘর্ষে ১০ জন আহত: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মারমুখী হয়ে উঠছেন নেতাকর্মী-সমর্থকরা। শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে নির্বাচনী প্রচার-পথসভা চলাকালীন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এর মধ্যে পাঁচজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে গাড়িয়াল পাড়া, হলোখানা ও কালিরহাট বাজারে আনারস প্রতীকের সমর্থকরা হামলা চালিয়ে চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। গাড়িয়াল পাড়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাজিজুর রহমান সাজুর পথরোধ করেন আনারস সমর্থক নেতাকর্মীরা। হলোখানা ইউনিয়নে হামলা করে একই পক্ষ। বেলগাছা ইউনিয়নের কালিহাটে হামলায় চারটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে মোটরসাইকেল প্রতীকের ১০ কর্মী আহত হন। এদিকে রাত ১২টার দিকে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বিআরটিসি বাস কাউন্টারে ভাঙচুর করে মোটরসাইকেলের একদল সমর্থক। সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে দুজনকে হাতুড়িপেটা: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নির্বাচনী কর্মিসভায় যাওয়ার পথে সালাম মণ্ডল ও জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুই সমর্থককে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। সালাম উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের তেকাটি গ্রামের ছামাদ মণ্ডলের ছেলে এবং জাহাঙ্গীর মৃত কাসেম মণ্ডলের ছেলে। তাদের শনিবার রাতে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালাম বলেন, সোনাপুর বাজারে সন্ধ্যার পর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনী কর্মিসভা ছিল। সেখানে যাওয়ার পথে দক্ষিণবাড়ী গোরস্থানের কাছে পৌঁছালে ৭-৮ জনের একদল যুবক হাতুড়িপেটা করে। তারা রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের চাচাতো ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এহসানুল হাকিম সাধনের মোটরসাইকেল প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেয়।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আখাউড়ায় আনারস প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন: আখাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী মুরাদ হোসেন ভূঁইয়ার (আনারস) নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ২টার দিকে গাজীর বাজারের পশ্চিম পাশে মুরাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে হঠাৎ আগুন দেখে বাজারে লোকজন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে অফিসে থাকা পোস্টার, ব্যানার পুড়ে যায়। আখাউড়া থানার ওসি নুরে আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচন : নানা শঙ্কায় কাল ১৫৭ উপজেলায় ভোট

আপডেট সময় ১০:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। রাত পোহালেই আগামীকাল মঙ্গলবার ১৫৭টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ধাপেও প্রচার ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত, হুমকি, আচরণবিধি লঙ্ঘন, সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোটের দিনও সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকে। স্থানীয় এমপি ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করে কতটুকু সুষ্ঠু ভোট সম্ভব হবে—সেটি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোনো কোনো প্রার্থী। অন্যদিকে অনেকটা একতরফা এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কতটা ভোটকেন্দ্রে আনা যাবে, তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ ও সংশয়ে রয়েছেন।

তবে সুষ্ঠু ভোটের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। ছোটখাটো যেসব সমস্যা মাঠে আছে, সেগুলো যাতে না হয়, সেজন্য প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। আর প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদী কমিশন।

নিয়ম অনুযায়ী, ৩৬ ঘণ্টা আগেই ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়। সে অনুযায়ী রোববার মধ্যরাতেই প্রথম ধাপের প্রচার শেষ হয়েছে। এরপর পোলিং এজেন্ট নিয়োগসহ শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন প্রার্থীরা। সেইসঙ্গে তৃতীয় ধাপের প্রার্থীরাও এরই মধ্যে প্রচারে নেমে পড়েছেন। আর চতুর্থ ধাপের ভোট নিয়েও অনানুষ্ঠানিক প্রচারে রয়েছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

প্রথম ধাপের নির্বাচনের জেরে গোপালগঞ্জ সদর ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার এ নির্বাচন ঘিরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সাইদুর রহমানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। গত শুক্রবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এক প্রার্থীর দুই সমর্থক আহত হন। অনেক জায়গায় প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গতকাল ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা, সংঘর্ষ ও নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে ১৬১টি উপজেলা নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে ইসি। এর মধ্যে ধাপ পরিবর্তন, মামলাসহ বিভিন্ন কারণে চারটিতে এ ধাপে ভোট হচ্ছে না। বাকি ১৫৭ উপজেলায় ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে তারা সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী ধাপগুলোর জন্যও একইভাবে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেবে ইসি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, চার ধাপের উপজেলা নির্বাচনের সব ধাপেই দুর্গম কেন্দ্রে আগের দিন ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। অন্যগুলোতে ব্যালট যাবে ভোটের দিন সকালে। মাঠ প্রশাসন থেকে দুর্গম এলাকা চিহ্নিত করে প্রতিবেদন পাঠালে নির্বাচন কমিশন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েক বছর ধরে ভোটে কারচুপি রোধ করতে আগের রাতে ব্যালট না পাঠিয়ে সকালে পাঠাচ্ছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য থাকবেন। এর আগে কখনো এত বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ভোটকেন্দ্রে ছিলেন না বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিটি স্বাভাবিক কেন্দ্রে অস্ত্রসহ তিন পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসারের পিসি ও এপিসি থাকবেন তিনজন। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সশস্ত্র ছয়জন সদস্য থাকবেন। প্রতিটি বুথ ব্যবস্থাপনার জন্য সর্বনিম্ন ১০ আনসার সদস্য থাকবেন এবং ছয়টির বেশি বুথ আছে এমন জায়গাগুলোতে একজন করে অতিরিক্ত আনসার থাকবে। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ চার পুলিশ সদস্য থাকবেন। আনসার থাকবে তিনজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ২০ থেকে ২১ সদস্য থাকবেন। এবার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকছেন। প্রতিটি উপজেলায়ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। ভোটের আগের দিন ও পরের দিন পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। গড়ে পাঁচটি সেন্টারের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল ফোর্স থাকবে। আনসার, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে এই মোবাইল ফোর্স গঠন করা হয়েছে। আর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিজিবির বদলে কোস্টগার্ড বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। সব বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ ৯৯৯ এর মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি অভিযোগ আসার পর কারা তা দেখবে, তাও ট্র্যাকিং করা হবে। নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে গতকাল থেকেই ৪৫৭ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নেমেছে। বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (মিডিয়া) শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিটি উপজেলায় দুই থেকে চার প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। গত ৮ মে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ভোটেও একইভাবে দায়িত্ব পালন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ভাঙ্গায় কাজী জাফরউল্লাহ সমর্থিত প্রার্থীর উঠান বৈঠকে হামলা-গাড়ি ভাঙচুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর সমর্থিত প্রার্থী মোখলেছুর রহমান সুমনের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এমপি নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় চারটি গাড়ি ও বেশ কিছু চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। এ সময় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত ৯টায় ভাঙ্গার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ব্রাহ্মণকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল মাঠে প্রার্থী মোখলেছুর রহমান সুমনের নির্বাচনী উঠান বৈঠক চলছিল। তখন নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক ইয়াকুব মাতুব্বর, তুহিন ও আক্কাস এর নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন অতর্কিত হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল, নির্বাচনের মাইক ও চারটি গাড়ি ভাঙচুর করেন।

ভাঙ্গা থানার ওসি মামুন আল রশিদ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় গতকাল রোববার প্রার্থীর ভাই মোতালেব মাতুব্বর বাদী হয়ে ইয়াকুব মাতুব্বরসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

কুড়িগ্রামে সংঘর্ষে ১০ জন আহত: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মারমুখী হয়ে উঠছেন নেতাকর্মী-সমর্থকরা। শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে নির্বাচনী প্রচার-পথসভা চলাকালীন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এর মধ্যে পাঁচজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে গাড়িয়াল পাড়া, হলোখানা ও কালিরহাট বাজারে আনারস প্রতীকের সমর্থকরা হামলা চালিয়ে চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। গাড়িয়াল পাড়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাজিজুর রহমান সাজুর পথরোধ করেন আনারস সমর্থক নেতাকর্মীরা। হলোখানা ইউনিয়নে হামলা করে একই পক্ষ। বেলগাছা ইউনিয়নের কালিহাটে হামলায় চারটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে মোটরসাইকেল প্রতীকের ১০ কর্মী আহত হন। এদিকে রাত ১২টার দিকে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বিআরটিসি বাস কাউন্টারে ভাঙচুর করে মোটরসাইকেলের একদল সমর্থক। সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে দুজনকে হাতুড়িপেটা: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নির্বাচনী কর্মিসভায় যাওয়ার পথে সালাম মণ্ডল ও জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুই সমর্থককে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। সালাম উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের তেকাটি গ্রামের ছামাদ মণ্ডলের ছেলে এবং জাহাঙ্গীর মৃত কাসেম মণ্ডলের ছেলে। তাদের শনিবার রাতে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালাম বলেন, সোনাপুর বাজারে সন্ধ্যার পর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনী কর্মিসভা ছিল। সেখানে যাওয়ার পথে দক্ষিণবাড়ী গোরস্থানের কাছে পৌঁছালে ৭-৮ জনের একদল যুবক হাতুড়িপেটা করে। তারা রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের চাচাতো ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এহসানুল হাকিম সাধনের মোটরসাইকেল প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেয়।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আখাউড়ায় আনারস প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন: আখাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী মুরাদ হোসেন ভূঁইয়ার (আনারস) নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ২টার দিকে গাজীর বাজারের পশ্চিম পাশে মুরাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে হঠাৎ আগুন দেখে বাজারে লোকজন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে অফিসে থাকা পোস্টার, ব্যানার পুড়ে যায়। আখাউড়া থানার ওসি নুরে আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।