ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১৪ দলের শরিকদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠনের সাড়ে চার মাস পর জোট নেতাদের নিয়ে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যা ৭টা থেকে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে শরিক দলগুলোর দু’জন করে নেতা অংশগ্রহণ করেন। 

 এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এবং সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ক্ষমতাসীন দলের কয়েক নেতাও ছিলেন। 

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, শরিক দলগুলোর পক্ষে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মূল বক্তব্য তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার বৈঠকের শুরুতেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেনন বলেন, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী অপশক্তি মোকাবিলায় ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা এখনও রয়েছে বলেই আমরা মনে করি। সেই বিবেচনায় ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন। কিন্তু গত নির্বাচনসহ অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ১৪ দলের প্রতি আওয়ামী লীগ কিংবা প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন সেভাবে পাইনি। এখন প্রধানমন্ত্রী ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে কীভাবে চিন্তা করছেন কিংবা জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা কী– সেটা স্পষ্ট করলে কাজে সুবিধা হয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট, বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি-লুটপাট বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেনন বলেন, এগুলো নিরসন করা না গেলে উন্নয়ন ও সফলতা ম্লান হয়ে যাবে। 

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, এখানে অনেক কথা বলা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ পেলে তাঁর কাছেই সব কথা বলতে পারব। 

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ১৪ দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কাজে লাগাতে হবে। নতুবা জঙ্গিবাদী শক্তিকে রোখা যাবে না। তবে আমরা জানি না– ১৪ দল বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী একইভাবে ভাবেন কিনা। এ বিষয়ে জোট নেত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনাও প্রয়োজন। 

তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী গত নির্বাচনে ১৪ দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে নিজ দল থেকে প্রার্থী হওয়া এবং এ নিয়ে তাঁরই ভাতিজা বিএসপি চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এর পরও আমরা ১৪ দলের সঙ্গে আছি, থাকব। এখন জোটকে শক্তিশালী করতে হবে। 

কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসিত বরণ রায় বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শকে ধারণ করি। ১৪ দল একই চেতনা নিয়ে গঠিত হলেও আওয়ামী লীগ এখনও আগের মতোই ভাবে কিনা– সেটাই প্রশ্ন।

১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেন, অনেক দিন ধরেই ১৪ দলের বৈঠকের চেষ্টা চলছিল। তবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী সময় দিতে না পারায় বৈঠক করা যাচ্ছিল না।     

শরিক নেতাদের ক্ষোভের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোটকে সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ১৪ দল আছে, থাকবে। শরিকদেরও নিজ নিজ দলকে সুসংগঠিত রাখতে হবে। দেশি-বিদেশি সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। 

বৈঠকে জোটের বাইরের সিপিবিসহ বাম দলগুলোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এখানে যারা প্রগতিশীল, সেই সিপিবি ও সেলিম ভাইও (মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম) আমাকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী বলেন। তারাও  এখন  ডানপন্থি হয়ে গেছেন।  তারা আমাকে উৎখাত করতে চান। আমি গেলে কে আসবে– সেটা কি তারা ভেবে দেখেছেন? 

বৈঠকে ১৪ দল নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, গণতন্ত্রী পার্টির একাংশের সভাপতি ডা. শাহাদাৎ হোসেন, অপরাংশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার, গণআজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এসকে সিকদার, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ফারুক, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির আহ্বায়ক শামীমা রেবেকা প্রমুখ। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠক শেষে গণভবন গেটে প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকের বৈঠকে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ১৪ দলকে আরও সংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৪ দলের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, এ বৈঠকের পর সেটা থাকবে না বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

এ সময় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

১৪ দলের শরিকদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১০:১৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠনের সাড়ে চার মাস পর জোট নেতাদের নিয়ে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যা ৭টা থেকে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে শরিক দলগুলোর দু’জন করে নেতা অংশগ্রহণ করেন। 

 এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এবং সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ক্ষমতাসীন দলের কয়েক নেতাও ছিলেন। 

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, শরিক দলগুলোর পক্ষে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মূল বক্তব্য তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার বৈঠকের শুরুতেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেনন বলেন, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী অপশক্তি মোকাবিলায় ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা এখনও রয়েছে বলেই আমরা মনে করি। সেই বিবেচনায় ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন। কিন্তু গত নির্বাচনসহ অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ১৪ দলের প্রতি আওয়ামী লীগ কিংবা প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন সেভাবে পাইনি। এখন প্রধানমন্ত্রী ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে কীভাবে চিন্তা করছেন কিংবা জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা কী– সেটা স্পষ্ট করলে কাজে সুবিধা হয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট, বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি-লুটপাট বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেনন বলেন, এগুলো নিরসন করা না গেলে উন্নয়ন ও সফলতা ম্লান হয়ে যাবে। 

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, এখানে অনেক কথা বলা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ পেলে তাঁর কাছেই সব কথা বলতে পারব। 

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ১৪ দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কাজে লাগাতে হবে। নতুবা জঙ্গিবাদী শক্তিকে রোখা যাবে না। তবে আমরা জানি না– ১৪ দল বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী একইভাবে ভাবেন কিনা। এ বিষয়ে জোট নেত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনাও প্রয়োজন। 

তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী গত নির্বাচনে ১৪ দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে নিজ দল থেকে প্রার্থী হওয়া এবং এ নিয়ে তাঁরই ভাতিজা বিএসপি চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এর পরও আমরা ১৪ দলের সঙ্গে আছি, থাকব। এখন জোটকে শক্তিশালী করতে হবে। 

কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসিত বরণ রায় বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শকে ধারণ করি। ১৪ দল একই চেতনা নিয়ে গঠিত হলেও আওয়ামী লীগ এখনও আগের মতোই ভাবে কিনা– সেটাই প্রশ্ন।

১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেন, অনেক দিন ধরেই ১৪ দলের বৈঠকের চেষ্টা চলছিল। তবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী সময় দিতে না পারায় বৈঠক করা যাচ্ছিল না।     

শরিক নেতাদের ক্ষোভের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোটকে সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ১৪ দল আছে, থাকবে। শরিকদেরও নিজ নিজ দলকে সুসংগঠিত রাখতে হবে। দেশি-বিদেশি সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। 

বৈঠকে জোটের বাইরের সিপিবিসহ বাম দলগুলোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এখানে যারা প্রগতিশীল, সেই সিপিবি ও সেলিম ভাইও (মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম) আমাকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী বলেন। তারাও  এখন  ডানপন্থি হয়ে গেছেন।  তারা আমাকে উৎখাত করতে চান। আমি গেলে কে আসবে– সেটা কি তারা ভেবে দেখেছেন? 

বৈঠকে ১৪ দল নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, গণতন্ত্রী পার্টির একাংশের সভাপতি ডা. শাহাদাৎ হোসেন, অপরাংশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার, গণআজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এসকে সিকদার, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ফারুক, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির আহ্বায়ক শামীমা রেবেকা প্রমুখ। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠক শেষে গণভবন গেটে প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকের বৈঠকে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ১৪ দলকে আরও সংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৪ দলের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, এ বৈঠকের পর সেটা থাকবে না বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

এ সময় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।