ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ-যুবলীগ করলে টাকা পাচার করা যায় : রিজভী

ছাত্রলীগ-যুবলীগ করলে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন যাদের আগে ঘরে খাবার ছিল না তারা কোটি কোটি টাকার লোক হয়েছে। আমরা আগে শুনেছি, জমিদাররা রাজনীতি করলে তাদের জমিদারি ফতুর হয়ে যায় আর এখন ছাত্রলীগ করলে হাজার কোটি টাকা পাচার করা যায়, যুবলীগ করলে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা যায়।

বুধবার (২২ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরামের উদ্যোগে বিশ্বমৈত্রী

কামনায় শান্তি শোভাযাত্রাপরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সরকার জোর করে ক্ষমতায় আছে। মানুষের ভোট কেড়ে নিয়েছে, মানুষের হাঁটাচলা বন্ধ করে দিয়েছে, মানুষের সমাবেশ করার অধিকার বন্ধ করেছে, মানুষের কণ্ঠের স্বাধীনতাকে বন্ধ করেছে। সেই কণ্ঠের মধ্যে ফাঁসির দড়ি লাগিয়েছে, এই পরিবেশের বিরুদ্ধে বুদ্ধের বাণী আমাদের অনুপ্রাণিত করে। নিজে কষ্ট সহ্য করে হলেও সত্যের প্রতি তার যে আত্মনিবেদন- সেই আত্মনিবেদন আমাদের স্মরণ করেই আগামী দিনে এই স্বৈরাচার পতনে আমাদের সবাইকে প্রত্যয় দীপ্ত হতে হবে, প্রত্যেককেই অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, গৌতম বুদ্ধের বাণী এবং শিক্ষা ধারণ করলে তিনি বলেছিলেন আত্মদীপ হও অর্থাৎ নিজের অন্তরের আলোতে তোমরা চলো। আমাদের এই সরকার নির্দেশ দেয় কীভাবে চলতে হবে। আমাদের সমাবেশ করার জন্য পুলিশের পারমিশন নিতে হয়, গণতান্ত্রকামী মানুষ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, গৌতম বুদ্ধের যে বাণী আত্মদীপ হও সেই অন্তরের আলোতেই আমরা চলি, আমরা চলতে চাই আর সেই চলার পথে কেউ বাধা-বিঘ্ন ঘটালে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা- এটা ন্যায়সঙ্গত।

তিনি আরও বলেন, এই পৃথিবীর একজন অনন্য শিক্ষক, তিনি রাজপুত্র ছিলেন-তার নাম সিদ্ধার্থ। তরুণ বয়সে যখন তার বিলাসিতার কোনো অভাব ছিল না, যৌবনের তাড়নায় মানুষ কত কিছু না করে, সেই সময়ে বেদনার্থ হয়ে যে মানুষটি রাজ পরিবারের সমস্ত আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আত্মজয় করেছিলেন এবং বুদ্ধর্থ প্রাপ্তি হয়ে গোটা বিশ্বের শিক্ষকে পরিণত হয়েছিলেন- আজও তার কথা এবং বাণী অমলিন, এটি ম্লান হয়ে যায়নি। আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে যার জন্ম হয়েছিল আমাদের বাংলা থেকে খুব দূরে নয়, এই হিমালয় পর্বতের পদদেশেই একটি রাজ্যে যার জন্ম হয়েছিল। নিজের সুখ, নিজের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে কী করে মানব কল্যাণে মানুষে মানুষের সম্প্রীতির জন্য যে অহিংসার বাণী প্রচার করেছিলেন, এটা যদি আজকের এই বিক্ষুব্ধ পৃথিবীতে প্রতিটা রাষ্ট্রের রাজনীতিবিদরা যদি একবার স্মরণ করতেন, চর্চা করতেন, তাহলে গোটা বিশ্বব্যাপী এত হানাহানি, এত রক্তপাত হতো না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, দলের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, জন গোমেজ, দীপেন দেওয়ান, সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব, আমিনুল ইসলাম, যুবদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত প্রমুখ।

এর আগে শান্তি শোভাযাত্রাটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

ছাত্রলীগ-যুবলীগ করলে টাকা পাচার করা যায় : রিজভী

আপডেট সময় ১২:৩২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪

ছাত্রলীগ-যুবলীগ করলে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন যাদের আগে ঘরে খাবার ছিল না তারা কোটি কোটি টাকার লোক হয়েছে। আমরা আগে শুনেছি, জমিদাররা রাজনীতি করলে তাদের জমিদারি ফতুর হয়ে যায় আর এখন ছাত্রলীগ করলে হাজার কোটি টাকা পাচার করা যায়, যুবলীগ করলে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা যায়।

বুধবার (২২ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরামের উদ্যোগে বিশ্বমৈত্রী

কামনায় শান্তি শোভাযাত্রাপরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সরকার জোর করে ক্ষমতায় আছে। মানুষের ভোট কেড়ে নিয়েছে, মানুষের হাঁটাচলা বন্ধ করে দিয়েছে, মানুষের সমাবেশ করার অধিকার বন্ধ করেছে, মানুষের কণ্ঠের স্বাধীনতাকে বন্ধ করেছে। সেই কণ্ঠের মধ্যে ফাঁসির দড়ি লাগিয়েছে, এই পরিবেশের বিরুদ্ধে বুদ্ধের বাণী আমাদের অনুপ্রাণিত করে। নিজে কষ্ট সহ্য করে হলেও সত্যের প্রতি তার যে আত্মনিবেদন- সেই আত্মনিবেদন আমাদের স্মরণ করেই আগামী দিনে এই স্বৈরাচার পতনে আমাদের সবাইকে প্রত্যয় দীপ্ত হতে হবে, প্রত্যেককেই অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, গৌতম বুদ্ধের বাণী এবং শিক্ষা ধারণ করলে তিনি বলেছিলেন আত্মদীপ হও অর্থাৎ নিজের অন্তরের আলোতে তোমরা চলো। আমাদের এই সরকার নির্দেশ দেয় কীভাবে চলতে হবে। আমাদের সমাবেশ করার জন্য পুলিশের পারমিশন নিতে হয়, গণতান্ত্রকামী মানুষ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, গৌতম বুদ্ধের যে বাণী আত্মদীপ হও সেই অন্তরের আলোতেই আমরা চলি, আমরা চলতে চাই আর সেই চলার পথে কেউ বাধা-বিঘ্ন ঘটালে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা- এটা ন্যায়সঙ্গত।

তিনি আরও বলেন, এই পৃথিবীর একজন অনন্য শিক্ষক, তিনি রাজপুত্র ছিলেন-তার নাম সিদ্ধার্থ। তরুণ বয়সে যখন তার বিলাসিতার কোনো অভাব ছিল না, যৌবনের তাড়নায় মানুষ কত কিছু না করে, সেই সময়ে বেদনার্থ হয়ে যে মানুষটি রাজ পরিবারের সমস্ত আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আত্মজয় করেছিলেন এবং বুদ্ধর্থ প্রাপ্তি হয়ে গোটা বিশ্বের শিক্ষকে পরিণত হয়েছিলেন- আজও তার কথা এবং বাণী অমলিন, এটি ম্লান হয়ে যায়নি। আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে যার জন্ম হয়েছিল আমাদের বাংলা থেকে খুব দূরে নয়, এই হিমালয় পর্বতের পদদেশেই একটি রাজ্যে যার জন্ম হয়েছিল। নিজের সুখ, নিজের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে কী করে মানব কল্যাণে মানুষে মানুষের সম্প্রীতির জন্য যে অহিংসার বাণী প্রচার করেছিলেন, এটা যদি আজকের এই বিক্ষুব্ধ পৃথিবীতে প্রতিটা রাষ্ট্রের রাজনীতিবিদরা যদি একবার স্মরণ করতেন, চর্চা করতেন, তাহলে গোটা বিশ্বব্যাপী এত হানাহানি, এত রক্তপাত হতো না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, দলের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, জন গোমেজ, দীপেন দেওয়ান, সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব, আমিনুল ইসলাম, যুবদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত প্রমুখ।

এর আগে শান্তি শোভাযাত্রাটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।