ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন :চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে সক্রিয় বিএনপি নেতাকর্মীরা

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:২৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪
  • 6

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটে নেই বিএনপির কোনো নেতাকর্মী। তারপরও চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন বিএনপি ও যুবদলের অনেক নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে সরব রয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় না-এ ধরনের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করছে দলটি।

বিএনপির ভোট বর্জনের মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়াকে ষড়যন্ত্র ও নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রার্থীরা।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘বিএনপি ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে নির্বাচন ও সরকারবিরোধী প্রচার চালাচ্ছে। তারপরও অন্তত ২০-৩০ জন নেতা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ হয়ে মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কৌশলে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। নির্বাচনে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার কৌশল হিসেবে মাঠে নেমেছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।শুক্রবার (২৪ মে) দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা ও বোয়ালখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র আবুল কালাম আবুসহ চারজনকে দলের সব ধরনের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা বিএনপি। ১৯ মে যুবদলের তিন নেতা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে যুবদল।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান জানান, ‘নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে যারা অংশ নেবে তাদের কোনো ছাড় নেই। প্রাথমিকভাবে চারজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আরও যারা নির্বাচনী মাঠে যাবে তাদেরও ক্ষমা করা হবে না।’

যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র হাজি আবুল কালাম আবু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক সুজন, সদস্য রেজাউল করিম রেজা মুন্সি, সারোয়াতলী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জহির আহমদ। গত ১৯ মে যুবদলের তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা যুবদল। এর মধ্যে বোয়ালখালীর মোহাম্মদ সিরাজ ও আবদুল্লাহ আল মামুন জুয়েল। আনোয়ারা আবদুল আজিজ।

দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগর বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যুবদলের তিনজনের অংশগ্রহণে প্রমাণ পাওয়ায় কারণ দর্শানো চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি জবাব পাওয়ার পর সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিএনপি নেতা আবুল কালাম আবুর ছোট ভাই শফিউল আলম শফি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শফি পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আবু ভাইয়ের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আবু ছেলে জুয়েলকেও যুবদলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আবুল কালাম আবু বলেন, ‘জেলার নেতাকে জেলা কীভাবে অব্যাহতি দিতে পারে। এটা দলের গঠনতন্ত্র মতো হয়নি। জেলার নেতাকে অব্যাহতি দেবে কেন্দ্রীয় কমিটি।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘শুধু চারজনকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো। ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে অন্তত ২০ জন নেতা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে মাঠে কাজ করছে। শুনেছি, যারা অব্যাহতি দিয়েছে, তারাও নাকি রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থীর পক্ষে গোপন বৈঠক করেছেন। মাঠে তাও প্রচার রয়েছে।’

চারজনকে অব্যাহতি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিনভর আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এ বিষয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার কাউন্সিলর ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপি নেতা মাহমুদুল হক, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস, পৌরসভা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর মাস্টার, শাকপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজম খানসহ অন্তত ২০ জন নেতা মাঠে সক্রিয় রয়েছে। আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির দুই নেতা বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটুট রয়েছে বিএনপি। শুধু দলের নেতাকর্মী নন, সাধারণ জনগণের মধ্যেও এ নির্বাচনকে ‘অহেতুক এবং সাজানো ও পাতানো’ উল্লেখ করে ভোট প্রদানে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন :চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে সক্রিয় বিএনপি নেতাকর্মীরা

আপডেট সময় ০৮:২৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটে নেই বিএনপির কোনো নেতাকর্মী। তারপরও চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন বিএনপি ও যুবদলের অনেক নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে সরব রয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় না-এ ধরনের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করছে দলটি।

বিএনপির ভোট বর্জনের মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়াকে ষড়যন্ত্র ও নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রার্থীরা।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘বিএনপি ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে নির্বাচন ও সরকারবিরোধী প্রচার চালাচ্ছে। তারপরও অন্তত ২০-৩০ জন নেতা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ হয়ে মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কৌশলে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। নির্বাচনে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার কৌশল হিসেবে মাঠে নেমেছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।শুক্রবার (২৪ মে) দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা ও বোয়ালখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র আবুল কালাম আবুসহ চারজনকে দলের সব ধরনের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা বিএনপি। ১৯ মে যুবদলের তিন নেতা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে যুবদল।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান জানান, ‘নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে যারা অংশ নেবে তাদের কোনো ছাড় নেই। প্রাথমিকভাবে চারজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আরও যারা নির্বাচনী মাঠে যাবে তাদেরও ক্ষমা করা হবে না।’

যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র হাজি আবুল কালাম আবু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক সুজন, সদস্য রেজাউল করিম রেজা মুন্সি, সারোয়াতলী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জহির আহমদ। গত ১৯ মে যুবদলের তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা যুবদল। এর মধ্যে বোয়ালখালীর মোহাম্মদ সিরাজ ও আবদুল্লাহ আল মামুন জুয়েল। আনোয়ারা আবদুল আজিজ।

দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগর বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যুবদলের তিনজনের অংশগ্রহণে প্রমাণ পাওয়ায় কারণ দর্শানো চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি জবাব পাওয়ার পর সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিএনপি নেতা আবুল কালাম আবুর ছোট ভাই শফিউল আলম শফি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শফি পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আবু ভাইয়ের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আবু ছেলে জুয়েলকেও যুবদলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আবুল কালাম আবু বলেন, ‘জেলার নেতাকে জেলা কীভাবে অব্যাহতি দিতে পারে। এটা দলের গঠনতন্ত্র মতো হয়নি। জেলার নেতাকে অব্যাহতি দেবে কেন্দ্রীয় কমিটি।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘শুধু চারজনকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো। ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে অন্তত ২০ জন নেতা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে মাঠে কাজ করছে। শুনেছি, যারা অব্যাহতি দিয়েছে, তারাও নাকি রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থীর পক্ষে গোপন বৈঠক করেছেন। মাঠে তাও প্রচার রয়েছে।’

চারজনকে অব্যাহতি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিনভর আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এ বিষয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার কাউন্সিলর ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপি নেতা মাহমুদুল হক, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস, পৌরসভা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর মাস্টার, শাকপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজম খানসহ অন্তত ২০ জন নেতা মাঠে সক্রিয় রয়েছে। আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির দুই নেতা বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটুট রয়েছে বিএনপি। শুধু দলের নেতাকর্মী নন, সাধারণ জনগণের মধ্যেও এ নির্বাচনকে ‘অহেতুক এবং সাজানো ও পাতানো’ উল্লেখ করে ভোট প্রদানে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’