ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনে ‘ব্যর্থতা’, আরও কমিটি বিলুপ্ত করবে বিএনপি

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
  • 6

বিএনপি ও ছাত্রদলের আট মহানগর কমিটিসহ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হলো গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। যদিও ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল মহানগরসহ একসঙ্গে মোট নয়টি কমিটি বিলুপ্তির কোনো কারণ উল্লেখ করেনি বিএনপি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিগত আন্দোলনে ব্যর্থতার নিরিখে নতুন করে দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বড় আকারে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত।

এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি বৃহত্তর আন্দোলনে বিপর্যয়ের পর দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর বিগত আন্দোলনে বিভিন্ন মহানগর বিএনপিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এর মধ্যে আন্দোলনে ছাত্রদল ও যুবদলের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। এ দুই সংগঠনকে বিএনপি আন্দোলনের ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে আশা করে। 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শিগগিরই অন্যান্য কমিটি ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠন করা হবে। তবে হঠাৎ করে একসঙ্গে এতগুলো কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে কিছু জানতেন না বলে জানা গেছে। কারণ, এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। বরাবরের মতো গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বাদ পড়া নেতাদের অনেকে অসন্তুষ্ট, কেউ কেউ হতবাক হন।

অবশ্য সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম কমিটি বিলুপ্তিকে ‘দল পুনর্গঠনের চলমান প্রক্রিয়া’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি গত বলেন, ‘বিএনপিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া সব পদই পরিবর্তনশীল। আমাকে দলের স্বার্থে, আন্দোলনের স্বার্থে যখন যেখানে কাজে লাগাবে, আমি সেখানেই কাজ করব।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিগত আন্দোলনে সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ছিল বরিশাল মহানগরে। সেখানে মজিবর রহমান সরোয়ারকে সরিয়ে তাঁর বিরোধী বলে পরিচিত মনিরুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক করে মহানগর কমিটি করা হয়। ফলে শুরু থেকেই এই কমিটি নিয়ে বিতর্ক এবং নানা রকমের দ্বন্দ্ব চলছিল। কমিটি বিলুপ্তির পর সরোয়ারের অনুসারীরা তৎপর হয়েছেন। মজিবর রহমান সরোয়ার বর্তমানে দলের যুগ্ম মহাসচিব। গতকাল তিনি বলেন, ‘কমিটি বিলুপ্ত করাটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ। এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটিও হতে পারে, আহ্বায়ক কমিটিও হতে পারে। যাহোক, সবাইকে নিয়ে সমন্বয় করেই যা করার করতে হবে। কারণ, আগে আহ্বায়ক কমিটি নেতৃত্ব দেওয়ার সময় আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক ক্ষতি হয়েছে। নেতৃত্ব তৈরি হয়নি।’

শাটডাউন কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থন

আন্দোলনে ‘ব্যর্থতা’, আরও কমিটি বিলুপ্ত করবে বিএনপি

আপডেট সময় ১১:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

বিএনপি ও ছাত্রদলের আট মহানগর কমিটিসহ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হলো গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। যদিও ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল মহানগরসহ একসঙ্গে মোট নয়টি কমিটি বিলুপ্তির কোনো কারণ উল্লেখ করেনি বিএনপি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিগত আন্দোলনে ব্যর্থতার নিরিখে নতুন করে দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বড় আকারে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত।

এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি বৃহত্তর আন্দোলনে বিপর্যয়ের পর দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর বিগত আন্দোলনে বিভিন্ন মহানগর বিএনপিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এর মধ্যে আন্দোলনে ছাত্রদল ও যুবদলের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। এ দুই সংগঠনকে বিএনপি আন্দোলনের ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে আশা করে। 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শিগগিরই অন্যান্য কমিটি ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠন করা হবে। তবে হঠাৎ করে একসঙ্গে এতগুলো কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে কিছু জানতেন না বলে জানা গেছে। কারণ, এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। বরাবরের মতো গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বাদ পড়া নেতাদের অনেকে অসন্তুষ্ট, কেউ কেউ হতবাক হন।

অবশ্য সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম কমিটি বিলুপ্তিকে ‘দল পুনর্গঠনের চলমান প্রক্রিয়া’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি গত বলেন, ‘বিএনপিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া সব পদই পরিবর্তনশীল। আমাকে দলের স্বার্থে, আন্দোলনের স্বার্থে যখন যেখানে কাজে লাগাবে, আমি সেখানেই কাজ করব।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিগত আন্দোলনে সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ছিল বরিশাল মহানগরে। সেখানে মজিবর রহমান সরোয়ারকে সরিয়ে তাঁর বিরোধী বলে পরিচিত মনিরুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক করে মহানগর কমিটি করা হয়। ফলে শুরু থেকেই এই কমিটি নিয়ে বিতর্ক এবং নানা রকমের দ্বন্দ্ব চলছিল। কমিটি বিলুপ্তির পর সরোয়ারের অনুসারীরা তৎপর হয়েছেন। মজিবর রহমান সরোয়ার বর্তমানে দলের যুগ্ম মহাসচিব। গতকাল তিনি বলেন, ‘কমিটি বিলুপ্ত করাটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ। এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটিও হতে পারে, আহ্বায়ক কমিটিও হতে পারে। যাহোক, সবাইকে নিয়ে সমন্বয় করেই যা করার করতে হবে। কারণ, আগে আহ্বায়ক কমিটি নেতৃত্ব দেওয়ার সময় আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক ক্ষতি হয়েছে। নেতৃত্ব তৈরি হয়নি।’