ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :
তিন জেলায় নতুন এসপি নিয়োগ, পুলিশে বড় রদবদল ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নির্দেশ বর্তমান সরকারের অধীনে তথ্য বিভ্রান্তির সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৭১ সালে পাকিস্তানীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা: রিজভী ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে ২৭ আগস্ট সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে আমেরিকান কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানাব শিশু আছিয়া হত্যা: হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মেহেদী-শান্তাসহ ৬ জন কারাগারে

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রাজনৈতিক সংগঠন ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।

কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল ও হরী সরকার।

এর আগে দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মনিরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

তবে শান্তা ফারজানা ও মোমিন মেহেদীর নামে একাধিক ওকালতনামা থাকায় তাদের জামিন শুনানি হয়নি। অপর চার আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবী মফিজুল ইসলাম আসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

আইনজীবী মফিজুল ইসলাম বলেন, “আয়াস নামে একটি ছেলে চড় মারে শান্তা ফারজানাকে। এ কারণে তারা মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন করে। সেখানে তাদেরকে মারধর করে। পরে হাসপাতালে গেলে সেখানেও মারধর করা হয়। এই ৪ জন ঘটনার সাথে জড়িত নয়, তাদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের জামিন প্রার্থণা করছি।”

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, “এরা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। তারা ভিন্ন একটা দল তৈরি করে। সেখানে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলে। এর প্রতিবাদ করলে আয়াসকে মারধর করে।”

শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

মোমিন মেহেদী, শান্তা ফারজানাসহ ওই ৬ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা আওয়ামী লীগের দোসর এবং বর্তমান সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিল দিতে থাকে। এ সময় বাবুল সরকার এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়াসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গেলে সেখানে দুই পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়ায়।

এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় রাত ১১টার দিকে তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।

মারামারির সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক ডনের জামিন মেলেনি

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মেহেদী-শান্তাসহ ৬ জন কারাগারে

আপডেট সময় ০৮:৩০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রাজনৈতিক সংগঠন ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।

কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল ও হরী সরকার।

এর আগে দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মনিরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

তবে শান্তা ফারজানা ও মোমিন মেহেদীর নামে একাধিক ওকালতনামা থাকায় তাদের জামিন শুনানি হয়নি। অপর চার আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবী মফিজুল ইসলাম আসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

আইনজীবী মফিজুল ইসলাম বলেন, “আয়াস নামে একটি ছেলে চড় মারে শান্তা ফারজানাকে। এ কারণে তারা মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন করে। সেখানে তাদেরকে মারধর করে। পরে হাসপাতালে গেলে সেখানেও মারধর করা হয়। এই ৪ জন ঘটনার সাথে জড়িত নয়, তাদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের জামিন প্রার্থণা করছি।”

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, “এরা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। তারা ভিন্ন একটা দল তৈরি করে। সেখানে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলে। এর প্রতিবাদ করলে আয়াসকে মারধর করে।”

শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

মোমিন মেহেদী, শান্তা ফারজানাসহ ওই ৬ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা আওয়ামী লীগের দোসর এবং বর্তমান সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিল দিতে থাকে। এ সময় বাবুল সরকার এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়াসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গেলে সেখানে দুই পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়ায়।

এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় রাত ১১টার দিকে তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।

মারামারির সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ ছিল।