ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শীতে কদর বাড়ছে টাঙ্গাইলের ঝাল চাপড়ির

টাঙ্গাইলে কদর বাড়ছে ঝাল চাপড়ির। দাম কম ও সুস্বাদু হওয়ায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে শীতের খাবারের তালিকায় ঝাল চাপড়ি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০-২৫ বছর আগে শুরুটা টাঙ্গাইল পৌর শহরের ডিস্ট্রিক্ট আদালত চত্বর এলাকায় হলেও এখন জেলার ১২ উপজেলা জুড়েই চলছে ঝাল চাপড়ির বিকিকিনি। বেচা-বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে দোকানের সংখ্যা। অন্যদিকে বেড়েছে তাদের আয় রোজগারও। ক্রেতা-বিক্রেতার দাবি, টাঙ্গাইলের চমচমের সুনাম যেমন সারাদেশেই রয়েছে তেমনি এই ঝাল চাপড়িও জায়গা করে নিবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল পৌর শহরের ডিস্ট্রিক্ট আদালত চত্বর এলাকা। এখানে রয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, জেলা পরিষদ, বিআরটিএ অফিস, পাসপোর্ট অফিস, নির্বাচন অফিস ও কাপড়ের দোকান। ভোরের আলো ফুটতেই এখানে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে নানা প্রয়োজনে ছুটে আসেন শত শত মানুষ। আর এসব মানুষের খাবারের চাহিদা মেটাতে আদালত চত্বরে হোটেলগুলোতে নানা খাবারের পাশাপাশি রয়েছে এই ঝাল চাপড়ির বিশেষ চাহিদা। তাই সকাল থেকেই চাপড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন দোকানিরা। এই ঝাল চাপড়ি তৈরিতে বিশেষ কোনো মসলা ব্যবহার হয় না। পানির সাথে আটা, লবণ, কালোজিরা ও হলুদের গুঁড়া দিয়ে প্রথমে ভালো করে মিশানো হয়। তারপর চুলায় বিশাল আকৃতির একটি কড়াই বসিয়ে তার উপর মেশানো আটা লেপে দেয়া হয়। এরপর আস্তে আস্তে তৈরি হতে থাকে সুস্বাদু ঝাল চাপড়ি। মচমচা হলেই চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করা হয়। চাপড়ির সাথে দেয়া হয় কাচামরিচ, পেঁয়াজ, ধনিয়া পাতা, আলু ও সরিষা ভর্তা।

আসলাম মিয়া নামে এক চাপড়ি বিক্রেতা বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩ হাজার থেকে ৩২’শ টাকার চাপড়ি বিক্রি করি। এতে ৭’শ থেকে ৮’শ লাভ থাকে। এই চাপড়ির ওজন ১ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, এই চাপড়ি বিক্রি করে ছেলে মেয়ে পড়াশোনা খরচ চালিয়েও সংসার ভালোভাবে চালাচ্ছি। এখানে সব ধরনের মানুষ চাপড়ি খেতে আসেন। অল্প টাকায় তাদের ক্ষুধা মেটাতে পারছে। চমচমের সুনাম যেমন সারাদেশে তেমনি একদিন এই চাপড়ির সুনাম ছড়িয়ে যাবে সারাদেশে।

আরেক চাপড়ি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার বাবা এখানে ব্যবসা করেছে, আমিও করছি। চাপড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সব শ্রেণির মানুষই চাপড়ি খায়। অনেকে খেয়ে পরিবারের জন্য বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। এই চাপড়ির চাহিদা সারা জেলাতে ছড়িয়ে পড়বে এক সময়।

জেলার ধনবাড়ী উপজেলা থেকে পাসপোর্ট করতে এসেছেন জব্বার আলী। তিনি বলেন, আমি পাসপোর্ট করতে এসেছিলাম। দুপুর হয়ে গেছে, ক্ষুধাও লেগেছে- হোটেলে খেলে ১২০-১৫০ টাকার নিচে খাওয়া যাবে না। পাসপোর্ট অফিসের সাথেই ঝাল চাপড়ি পাওয়া যায়। সবার মুখে মুখে শুনেছি অনেক সুস্বাদু, আজ খেয়ে দেখলাম- সত্যি খেয়ে অনেক তৃপ্তি পেলাম। ২০ টাকায় খাওয়াও হয়ে গেল।

সদর উপজেলার হুগড়া গ্রামের রিকশাচালক আলী আকবর বলেন, সকালে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হই। সকাল ও দুপুরে ডিস্ট্রিক্ট আদালত চত্বরে এসে চাপড়ি খাই। আমরা গরীব মানুষ হোটেলে খেলে অনেক টাকা লাগে, এতো টাকা কই পাবো। ২০ টাকা দিয়ে চাপড়ি খাই- ক্ষুধা মিটে, টাকাও বাঁচে।

একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন জাকির হোসেন। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। টাঙ্গাইল আদালত চত্বরে কাজে এসেছি। অনেকের মুখে শুনেছি চাপড়ির কথা- অনেক সুস্বাদু। খেয়ে দেখলাম অনেক মজা। ২০ টাকায় দিয়ে দুপুরে খাবার হয়ে গেল।

শাটডাউন কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থন

শীতে কদর বাড়ছে টাঙ্গাইলের ঝাল চাপড়ির

আপডেট সময় ১১:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৪

টাঙ্গাইলে কদর বাড়ছে ঝাল চাপড়ির। দাম কম ও সুস্বাদু হওয়ায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে শীতের খাবারের তালিকায় ঝাল চাপড়ি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০-২৫ বছর আগে শুরুটা টাঙ্গাইল পৌর শহরের ডিস্ট্রিক্ট আদালত চত্বর এলাকায় হলেও এখন জেলার ১২ উপজেলা জুড়েই চলছে ঝাল চাপড়ির বিকিকিনি। বেচা-বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে দোকানের সংখ্যা। অন্যদিকে বেড়েছে তাদের আয় রোজগারও। ক্রেতা-বিক্রেতার দাবি, টাঙ্গাইলের চমচমের সুনাম যেমন সারাদেশেই রয়েছে তেমনি এই ঝাল চাপড়িও জায়গা করে নিবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল পৌর শহরের ডিস্ট্রিক্ট আদালত চত্বর এলাকা। এখানে রয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, জেলা পরিষদ, বিআরটিএ অফিস, পাসপোর্ট অফিস, নির্বাচন অফিস ও কাপড়ের দোকান। ভোরের আলো ফুটতেই এখানে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে নানা প্রয়োজনে ছুটে আসেন শত শত মানুষ। আর এসব মানুষের খাবারের চাহিদা মেটাতে আদালত চত্বরে হোটেলগুলোতে নানা খাবারের পাশাপাশি রয়েছে এই ঝাল চাপড়ির বিশেষ চাহিদা। তাই সকাল থেকেই চাপড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন দোকানিরা। এই ঝাল চাপড়ি তৈরিতে বিশেষ কোনো মসলা ব্যবহার হয় না। পানির সাথে আটা, লবণ, কালোজিরা ও হলুদের গুঁড়া দিয়ে প্রথমে ভালো করে মিশানো হয়। তারপর চুলায় বিশাল আকৃতির একটি কড়াই বসিয়ে তার উপর মেশানো আটা লেপে দেয়া হয়। এরপর আস্তে আস্তে তৈরি হতে থাকে সুস্বাদু ঝাল চাপড়ি। মচমচা হলেই চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করা হয়। চাপড়ির সাথে দেয়া হয় কাচামরিচ, পেঁয়াজ, ধনিয়া পাতা, আলু ও সরিষা ভর্তা।

আসলাম মিয়া নামে এক চাপড়ি বিক্রেতা বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩ হাজার থেকে ৩২’শ টাকার চাপড়ি বিক্রি করি। এতে ৭’শ থেকে ৮’শ লাভ থাকে। এই চাপড়ির ওজন ১ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, এই চাপড়ি বিক্রি করে ছেলে মেয়ে পড়াশোনা খরচ চালিয়েও সংসার ভালোভাবে চালাচ্ছি। এখানে সব ধরনের মানুষ চাপড়ি খেতে আসেন। অল্প টাকায় তাদের ক্ষুধা মেটাতে পারছে। চমচমের সুনাম যেমন সারাদেশে তেমনি একদিন এই চাপড়ির সুনাম ছড়িয়ে যাবে সারাদেশে।

আরেক চাপড়ি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার বাবা এখানে ব্যবসা করেছে, আমিও করছি। চাপড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সব শ্রেণির মানুষই চাপড়ি খায়। অনেকে খেয়ে পরিবারের জন্য বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। এই চাপড়ির চাহিদা সারা জেলাতে ছড়িয়ে পড়বে এক সময়।

জেলার ধনবাড়ী উপজেলা থেকে পাসপোর্ট করতে এসেছেন জব্বার আলী। তিনি বলেন, আমি পাসপোর্ট করতে এসেছিলাম। দুপুর হয়ে গেছে, ক্ষুধাও লেগেছে- হোটেলে খেলে ১২০-১৫০ টাকার নিচে খাওয়া যাবে না। পাসপোর্ট অফিসের সাথেই ঝাল চাপড়ি পাওয়া যায়। সবার মুখে মুখে শুনেছি অনেক সুস্বাদু, আজ খেয়ে দেখলাম- সত্যি খেয়ে অনেক তৃপ্তি পেলাম। ২০ টাকায় খাওয়াও হয়ে গেল।

সদর উপজেলার হুগড়া গ্রামের রিকশাচালক আলী আকবর বলেন, সকালে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হই। সকাল ও দুপুরে ডিস্ট্রিক্ট আদালত চত্বরে এসে চাপড়ি খাই। আমরা গরীব মানুষ হোটেলে খেলে অনেক টাকা লাগে, এতো টাকা কই পাবো। ২০ টাকা দিয়ে চাপড়ি খাই- ক্ষুধা মিটে, টাকাও বাঁচে।

একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন জাকির হোসেন। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। টাঙ্গাইল আদালত চত্বরে কাজে এসেছি। অনেকের মুখে শুনেছি চাপড়ির কথা- অনেক সুস্বাদু। খেয়ে দেখলাম অনেক মজা। ২০ টাকায় দিয়ে দুপুরে খাবার হয়ে গেল।