ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতা ইশরাকের ১০ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪
  • 10

বাইডেনের ভুয়া উপদেষ্টাকাণ্ডে রাষ্ট্রদোহীর অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানার মামলায় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার (২৯ মে) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. কবির হোসেন হাওলাদার কালবেলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ১৯ মে ইশরাকের বিরুদ্ধে হওয়া ১২ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী মো. তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ১১ টি মামলায় জামিন দিলেও পল্টন থানার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ২৬ মে মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনসহ আরো কোন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত আছে কি না তাদের তথ্য সংগ্রহসহ গ্রেপ্তারের জন্য আসামীর দশ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আসামি ইশরাকের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে গত ২৯ অক্টোবর মহিউদ্দিন শিকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন। মামলায় মিয়ান আরেফিসহ অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল হাসান সারওয়ার্দী এবং বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ৩০ অক্টোবর মিয়ান আরেফিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।গত ৩১ অক্টোবর সাভার থেকে হাসান সারওয়ার্দী গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ উপলক্ষে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে সারাদেশ থেকে বিএনপির নেতা কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করে। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বিক্ষুদ্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ নেতা কর্মীরা কাকরাইল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রধান বিচারপতি বাসভবনসহ সরকারী স্থাপনা, ও সরকারী গাড়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নি সংযোগ করে। সংঘর্ষের ফলে পুলিশের ৪১ জন সদস্য আহতসহ একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়। একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ৩ টার সময় মহাসমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করে।

এরপর পূর্বপরিকল্পনা মতে এজাহারনামীয় আসামী ইশরাকের যোগসাজসে মিয়ান আরেফি নিজেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে।

পরবর্তীতে বাংলাদেশের আমেরিকান দূতাবাস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান যে প্রেসিডেন্টের জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয়দানকারী ব্যক্তি মিয়ান আরাফী আমেরিকান নাগরিক হলেও সে জো বাইডেনের কোন উপদেষ্টা নয় এবং সে আমেরিকান সরকারের কেউ নয়। আসামি মিয়ান আরেফি, আসামি হাসান সারওয়ার্দী এবং আসামী মো. ইশরাফ হোসেনসহ পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণা করে আসামিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় প্রদান করে সহায়তা করে। আসামি ইশরাকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিকভাবে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

বিএনপি নেতা ইশরাকের ১০ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি

আপডেট সময় ০৩:৪৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

বাইডেনের ভুয়া উপদেষ্টাকাণ্ডে রাষ্ট্রদোহীর অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানার মামলায় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার (২৯ মে) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. কবির হোসেন হাওলাদার কালবেলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ১৯ মে ইশরাকের বিরুদ্ধে হওয়া ১২ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী মো. তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ১১ টি মামলায় জামিন দিলেও পল্টন থানার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ২৬ মে মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনসহ আরো কোন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত আছে কি না তাদের তথ্য সংগ্রহসহ গ্রেপ্তারের জন্য আসামীর দশ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আসামি ইশরাকের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে গত ২৯ অক্টোবর মহিউদ্দিন শিকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন। মামলায় মিয়ান আরেফিসহ অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল হাসান সারওয়ার্দী এবং বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ৩০ অক্টোবর মিয়ান আরেফিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।গত ৩১ অক্টোবর সাভার থেকে হাসান সারওয়ার্দী গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ উপলক্ষে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে সারাদেশ থেকে বিএনপির নেতা কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করে। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বিক্ষুদ্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ নেতা কর্মীরা কাকরাইল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রধান বিচারপতি বাসভবনসহ সরকারী স্থাপনা, ও সরকারী গাড়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নি সংযোগ করে। সংঘর্ষের ফলে পুলিশের ৪১ জন সদস্য আহতসহ একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়। একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ৩ টার সময় মহাসমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করে।

এরপর পূর্বপরিকল্পনা মতে এজাহারনামীয় আসামী ইশরাকের যোগসাজসে মিয়ান আরেফি নিজেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে।

পরবর্তীতে বাংলাদেশের আমেরিকান দূতাবাস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান যে প্রেসিডেন্টের জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয়দানকারী ব্যক্তি মিয়ান আরাফী আমেরিকান নাগরিক হলেও সে জো বাইডেনের কোন উপদেষ্টা নয় এবং সে আমেরিকান সরকারের কেউ নয়। আসামি মিয়ান আরেফি, আসামি হাসান সারওয়ার্দী এবং আসামী মো. ইশরাফ হোসেনসহ পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণা করে আসামিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় প্রদান করে সহায়তা করে। আসামি ইশরাকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিকভাবে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।