ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাজেটে কৃষকের জন্য কোনো সুখবর নেই

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশে সারের দাম বেড়েছে ১০৫ শতাংশ। দাম বাড়ার তালিকায় আছে জ্বালানি তেল, বীজসহ সব কৃষি উপকরণ। এতে ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষককে পড়তে হচ্ছে গ্যাঁড়াকলে। এর মধ্যে তাপপ্রবাহ ও সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় রিমাল কৃষিতে ক্ষত তৈরি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে কৃষি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কৃষকের উৎকণ্ঠার মধ্যে এসেছে নতুন বাজেট। 

আশা ছিল, কৃষকের উদ্বেগ প্রশমনে অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাব হবে উপযুক্ত রক্ষাকবচ। তবে তাঁর বক্তব্যে বরাদ্দ বাড়ানো ছাড়া আর তেমন সুখবর নেই। ভর্তুকিও গত অর্থবছরের মতো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটে কৃষি বরাবরই গতানুগতিক। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় নতুন কিছু নেই।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৮ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মন্ত্রণালয়ে বাজেট বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। শতাংশের হিসাবে মোট বাজেটের মাত্র ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অথচ মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশ। 

ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ আগের অর্থবছরের তুলনায় কম ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৭ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল ১৭ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়িয়ে ২৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। 

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে গবাদি পশু এবং হাঁস-মুরগির টেকসই জাত উন্নয়ন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উৎপাদন দ্বিগুণ করার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, খামারি ও জেলেদের সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত বাজেটে ৪ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কৃষি বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি খাতে অনেক বেশি বরাদ্দ দেওয়ার দরকার ছিল। সেটি দেওয়া হয়নি। গত বছরের চেয়ে এবার সব কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে। কৃষকের জন্য যে পরিমাণ ভর্তুকি আশা করেছিলাম, সে পরিমাণ বাড়ানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষকের সামনে চ্যালেঞ্জ ফসলের উৎপাদন খরচ কমানো এবং তার ন্যায্যমূল্য পাওয়া। কৃষকের জীবন এখন পর্যন্ত ঋণের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত নয়। সরকার মনে করতে পারে সার, কীটনাশক, সেচ সুবিধার জোগান সরকার দিচ্ছে, তাই কৃষকের ওপর আগের মতো আর খরচের চাপ পড়ে না। আমরা মনে করি, এ ধারণার ভুলগুলো চিহ্নিত এবং তা খতিয়ে দেখার এখনই সময়।

বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের উৎপাদন ও ফসল বিক্রির সমস্যা, ন্যায্যমূল্য পাওয়া, ফসল সংরক্ষণ করার সমস্যা সমাধান করতে হবে। বাজেটে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।

বাজেটে কৃষকের জন্য কোনো সুখবর নেই

আপডেট সময় ০৩:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশে সারের দাম বেড়েছে ১০৫ শতাংশ। দাম বাড়ার তালিকায় আছে জ্বালানি তেল, বীজসহ সব কৃষি উপকরণ। এতে ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষককে পড়তে হচ্ছে গ্যাঁড়াকলে। এর মধ্যে তাপপ্রবাহ ও সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় রিমাল কৃষিতে ক্ষত তৈরি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে কৃষি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কৃষকের উৎকণ্ঠার মধ্যে এসেছে নতুন বাজেট। 

আশা ছিল, কৃষকের উদ্বেগ প্রশমনে অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাব হবে উপযুক্ত রক্ষাকবচ। তবে তাঁর বক্তব্যে বরাদ্দ বাড়ানো ছাড়া আর তেমন সুখবর নেই। ভর্তুকিও গত অর্থবছরের মতো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটে কৃষি বরাবরই গতানুগতিক। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় নতুন কিছু নেই।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৮ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মন্ত্রণালয়ে বাজেট বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। শতাংশের হিসাবে মোট বাজেটের মাত্র ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অথচ মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশ। 

ভর্তুকি ও প্রণোদনায় বরাদ্দ আগের অর্থবছরের তুলনায় কম ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৭ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল ১৭ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়িয়ে ২৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। 

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে গবাদি পশু এবং হাঁস-মুরগির টেকসই জাত উন্নয়ন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উৎপাদন দ্বিগুণ করার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, খামারি ও জেলেদের সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত বাজেটে ৪ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কৃষি বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি খাতে অনেক বেশি বরাদ্দ দেওয়ার দরকার ছিল। সেটি দেওয়া হয়নি। গত বছরের চেয়ে এবার সব কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে। কৃষকের জন্য যে পরিমাণ ভর্তুকি আশা করেছিলাম, সে পরিমাণ বাড়ানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষকের সামনে চ্যালেঞ্জ ফসলের উৎপাদন খরচ কমানো এবং তার ন্যায্যমূল্য পাওয়া। কৃষকের জীবন এখন পর্যন্ত ঋণের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত নয়। সরকার মনে করতে পারে সার, কীটনাশক, সেচ সুবিধার জোগান সরকার দিচ্ছে, তাই কৃষকের ওপর আগের মতো আর খরচের চাপ পড়ে না। আমরা মনে করি, এ ধারণার ভুলগুলো চিহ্নিত এবং তা খতিয়ে দেখার এখনই সময়।

বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের উৎপাদন ও ফসল বিক্রির সমস্যা, ন্যায্যমূল্য পাওয়া, ফসল সংরক্ষণ করার সমস্যা সমাধান করতে হবে। বাজেটে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।