ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রভার নতুন উপলব্ধি, অনেক না–বলা কথা

হিসাব ধরলে প্রায় ১৯ বছর বিনোদন অঙ্গনে কাজ করছেন সাদিয়া জাহান প্রভা। শুরুর দিকে তুমুল ব্যস্ততায় দিন পার করলেও এখন নিজের ইচ্ছায় কাজটা অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। দুই দশকে এসে এই অভিনয়শিল্পীর উপলব্ধি, তিনি এই জীবনে কী চান, তা জানেন না। সত্যি সত্যিই জানেন না। নিজের ফেসবুক পোস্টে এমনটাই জানালেন এই অভিনয়শিল্পী ও মডেল।

বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে প্রভা সবার নজর কাড়েন। এরপর নাটক, টেলিছবিতে কাজ করে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এখন তিনি নিজেকে আর সেভাবে অভিনয়ে ব্যস্ত রাখেন না। মাঝেমধ্যে মন চাইলে, গল্প পছন্দ হলে নতুন নাটক বা টেলিছবির শুটিং করেন। আবার মাঝেমধ্যে ওটিটিতেও দেখা যায়।

প্রভার ভাষায়, ‘অভিনয়ের জন্য অনেক স্ক্রিপ্টই তো আসে, কিন্তু অনেক সময় নিজের সঙ্গে আপস করতে পারি না।’ এরপরও যাচাই-বাছাই শেষে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে মনে হয় যে এবার আমার কাজ করতে হবে।

আজ সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে প্রভা নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করে বললেন, ‘হয়তো আমি এখনো জানি না, আমার এই জীবনে আমি ঠিক কী চাই। কিন্তু আমি সত্যিই জানি, আমি কী চাই না।’ প্রভার এই না চাওয়ার তালিকায় একাধিক বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। ফেসবুক লেখা সেই তালিকায় তিনি বলেছেন, ‘আমি কষ্টকর ও অগোছালো জীবন, বিষাক্ত সম্পর্ক, অসৎ অভিপ্রায়, অনিশ্চিত অনুভূতি অথবা অস্থায়ী মানুষের সান্নিধ্য না। ঘুমানোর আগে, দুঃখের দিনে বা বেদনাদায়ক কোনো রাতে আমি আর কাঁদতে চাই না। আমি শুধু চাই, সবকিছু ভুলে নতুন করে শুরু করতে।’

একটা সময় এত বেশি অভিনয় করতেন, হঠাৎ একদমই অনিয়মিত হলেন। অভিনয় কমিয়ে দেওয়ার পেছনে কোন যুক্তি আপনার—এমন প্রসঙ্গে প্রভা বলেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে বলতে পারি, অনেক না-বলা অভিযোগ, না-বলা দুঃখ আছে। অনেক মানুষের দেওয়া অকারণ অপমান হজম করেছি। এসব কারণে আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। এই সেক্টরে আমি যখন কাজ করতে এসেছিলাম, তখন মনে করেছিলাম, পা ফেলতে হবে অনেক স্মার্টলি। এতটুকুই। সেই আমি একটা সময় নানা রকম পলিটিকসের শিকার হব, মিডিয়াতে কাজ করলেই মেয়েটা খারাপ বা মেয়েটাকে অনেক কথা শুনতে হবে, এমনটা ভাবিনি। আরও কিছু বিষয় আছে।’

কী সেসব বিষয়—প্রশ্ন করতেই প্রভার উত্তর, ‘অনেক বড় বিষয় হচ্ছে, কয়েক বছর ধরে সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে ইউনিটে থাকা প্রায় সবারই ফেসবুক পেজ, টিকটক অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম আছে। এসবের কারণে শুটিং সেটে স্মার্টফোনের অপব্যবহার হয়। এর বাইরে অনেকে শুটিং দেখতেও আসেন। যদিও ইদানীং কিছুটা কঠোর হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পুরোপুরি নয়। অথচ আগে দেখতাম, নাটক-টেলিছবি প্রচারের আগে দূর থেকে ক্যাপচার করা একটা ভিডিও ক্লিপ টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউবে ছাড়া হয়েছে। অপেশাদার ওরা তো আর জানে না, ক্যামেরা কেমন করে ধরতে হয়, দেখা গেছে ভালগার ওয়েতে ধরছে। ওসব দেখে আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি তো এখানে কাজ করতে আসছি। অভিনয়দক্ষতা দেখাতে আসছি। এর বাইরে ব্যক্তিগত কিছু বিষয়ও ছিল।’

কী সেই ব্যক্তিগত ইস্যু? ‘আমি যাকে কিংবা যাদের সহশিল্পীর চেয়ে ভালো বন্ধুও মনে করতাম, তাদের কিছু কর্মকাণ্ডও আমাকে আহত করেছে। এমনও দেখেছি, কোনো কোনো সহশিল্পী আছেন, তাঁদের ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউব আছে, ভিউ পাওয়ার জন্য শুটিং সেটে এমন কিছু অ্যাকটিভিটি করেন, যেটার কোনো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করেননি! আমারই একজন সহকর্মীকে প্রায়ই দেখেছি, অনুমতি ছাড়াই এমন কর্মকাণ্ড। তাঁর সহকারী ক্যামেরা চালাচ্ছেন, অথচ সেটা শুটিংয়ের কিছু না, যেটার জন্য বিব্রতবোধ করেছি! এসব যে সেই সহশিল্পী ইচ্ছাকৃত করতেন, তা ভিডিও ক্লিপগুলো প্রকাশের পর বোঝা যেত। ওই সহশিল্পীকে প্রায় সময় আরও অনেকের সঙ্গে এমন আচরণ করতে দেখি। এসব ভিডিও ক্লিপ ইউটিউব বা টিকটকে দেখতাম, আমাকে মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত করেছে,’ বললেন প্রভা।

সূত্র : প্রথম আলো

প্রভার নতুন উপলব্ধি, অনেক না–বলা কথা

আপডেট সময় ০২:২৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

হিসাব ধরলে প্রায় ১৯ বছর বিনোদন অঙ্গনে কাজ করছেন সাদিয়া জাহান প্রভা। শুরুর দিকে তুমুল ব্যস্ততায় দিন পার করলেও এখন নিজের ইচ্ছায় কাজটা অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। দুই দশকে এসে এই অভিনয়শিল্পীর উপলব্ধি, তিনি এই জীবনে কী চান, তা জানেন না। সত্যি সত্যিই জানেন না। নিজের ফেসবুক পোস্টে এমনটাই জানালেন এই অভিনয়শিল্পী ও মডেল।

বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে প্রভা সবার নজর কাড়েন। এরপর নাটক, টেলিছবিতে কাজ করে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এখন তিনি নিজেকে আর সেভাবে অভিনয়ে ব্যস্ত রাখেন না। মাঝেমধ্যে মন চাইলে, গল্প পছন্দ হলে নতুন নাটক বা টেলিছবির শুটিং করেন। আবার মাঝেমধ্যে ওটিটিতেও দেখা যায়।

প্রভার ভাষায়, ‘অভিনয়ের জন্য অনেক স্ক্রিপ্টই তো আসে, কিন্তু অনেক সময় নিজের সঙ্গে আপস করতে পারি না।’ এরপরও যাচাই-বাছাই শেষে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে মনে হয় যে এবার আমার কাজ করতে হবে।

আজ সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে প্রভা নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করে বললেন, ‘হয়তো আমি এখনো জানি না, আমার এই জীবনে আমি ঠিক কী চাই। কিন্তু আমি সত্যিই জানি, আমি কী চাই না।’ প্রভার এই না চাওয়ার তালিকায় একাধিক বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। ফেসবুক লেখা সেই তালিকায় তিনি বলেছেন, ‘আমি কষ্টকর ও অগোছালো জীবন, বিষাক্ত সম্পর্ক, অসৎ অভিপ্রায়, অনিশ্চিত অনুভূতি অথবা অস্থায়ী মানুষের সান্নিধ্য না। ঘুমানোর আগে, দুঃখের দিনে বা বেদনাদায়ক কোনো রাতে আমি আর কাঁদতে চাই না। আমি শুধু চাই, সবকিছু ভুলে নতুন করে শুরু করতে।’

একটা সময় এত বেশি অভিনয় করতেন, হঠাৎ একদমই অনিয়মিত হলেন। অভিনয় কমিয়ে দেওয়ার পেছনে কোন যুক্তি আপনার—এমন প্রসঙ্গে প্রভা বলেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে বলতে পারি, অনেক না-বলা অভিযোগ, না-বলা দুঃখ আছে। অনেক মানুষের দেওয়া অকারণ অপমান হজম করেছি। এসব কারণে আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। এই সেক্টরে আমি যখন কাজ করতে এসেছিলাম, তখন মনে করেছিলাম, পা ফেলতে হবে অনেক স্মার্টলি। এতটুকুই। সেই আমি একটা সময় নানা রকম পলিটিকসের শিকার হব, মিডিয়াতে কাজ করলেই মেয়েটা খারাপ বা মেয়েটাকে অনেক কথা শুনতে হবে, এমনটা ভাবিনি। আরও কিছু বিষয় আছে।’

কী সেসব বিষয়—প্রশ্ন করতেই প্রভার উত্তর, ‘অনেক বড় বিষয় হচ্ছে, কয়েক বছর ধরে সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে ইউনিটে থাকা প্রায় সবারই ফেসবুক পেজ, টিকটক অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম আছে। এসবের কারণে শুটিং সেটে স্মার্টফোনের অপব্যবহার হয়। এর বাইরে অনেকে শুটিং দেখতেও আসেন। যদিও ইদানীং কিছুটা কঠোর হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পুরোপুরি নয়। অথচ আগে দেখতাম, নাটক-টেলিছবি প্রচারের আগে দূর থেকে ক্যাপচার করা একটা ভিডিও ক্লিপ টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউবে ছাড়া হয়েছে। অপেশাদার ওরা তো আর জানে না, ক্যামেরা কেমন করে ধরতে হয়, দেখা গেছে ভালগার ওয়েতে ধরছে। ওসব দেখে আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি তো এখানে কাজ করতে আসছি। অভিনয়দক্ষতা দেখাতে আসছি। এর বাইরে ব্যক্তিগত কিছু বিষয়ও ছিল।’

কী সেই ব্যক্তিগত ইস্যু? ‘আমি যাকে কিংবা যাদের সহশিল্পীর চেয়ে ভালো বন্ধুও মনে করতাম, তাদের কিছু কর্মকাণ্ডও আমাকে আহত করেছে। এমনও দেখেছি, কোনো কোনো সহশিল্পী আছেন, তাঁদের ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউব আছে, ভিউ পাওয়ার জন্য শুটিং সেটে এমন কিছু অ্যাকটিভিটি করেন, যেটার কোনো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করেননি! আমারই একজন সহকর্মীকে প্রায়ই দেখেছি, অনুমতি ছাড়াই এমন কর্মকাণ্ড। তাঁর সহকারী ক্যামেরা চালাচ্ছেন, অথচ সেটা শুটিংয়ের কিছু না, যেটার জন্য বিব্রতবোধ করেছি! এসব যে সেই সহশিল্পী ইচ্ছাকৃত করতেন, তা ভিডিও ক্লিপগুলো প্রকাশের পর বোঝা যেত। ওই সহশিল্পীকে প্রায় সময় আরও অনেকের সঙ্গে এমন আচরণ করতে দেখি। এসব ভিডিও ক্লিপ ইউটিউব বা টিকটকে দেখতাম, আমাকে মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত করেছে,’ বললেন প্রভা।

সূত্র : প্রথম আলো