ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পাঁচ বছরে বনে আগুনের ঘটনা বেড়েছে তিন গুণ

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪
  • 5

দেশের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। সরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থা ফায়ার সার্ভিসের হিসাবেই গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশের বনজঙ্গলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তিন গুণ হয়েছে। এসব আগুনে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বনের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হওয়া ছোট আগুনও মুহূর্তেই রূপ নেয় দাবানলে। পুড়ে যায় একরের পর একর বনাঞ্চল। এ ধরনের আগুনে বিনষ্ট হয় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। উজাড় হয়ে যায় গাছপালা। বনের মধ্যে রাস্তা না থাকা, পানির সংকুলান না থাকাসহ সরঞ্জামের ঘাটতি বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশের বনাঞ্চলে আগুনের ঘটনা ছিল ৬৮টি। ক্ষতি হয়েছিল ৬ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকার। আর গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে দেশের বনাঞ্চলে আগুনের ঘটনা তিন গুণ বেড়ে হয় ১৯৬টি। আগুনে ক্ষতিও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে আগুনে বনের ক্ষতি বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৩ টাকায়। এর আগে ২০২২ সালে ১৪৬টি আগুনের ঘটনায় ক্ষতি হয় ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫০ টাকা। ২০২১ সালে দেশের বনজঙ্গলে মোট আগুনের ঘটনা ঘটে ১৬৫টি। এসব আগুনে বনের ক্ষতি হয় ২১ লাখ ৯৬ হাজার টাকার। ২০২০ সালে বনে ১৪৮টি আগুনের ঘটনায় ক্ষতি হয় ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৮১৪ টাকার।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (অপারেশন) পদে দায়িত্ব পালন শেষে সদ্য অবসরে গেছেন দেবাশীষ বর্ধন। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত তাপের জন্য যেমন অ্যামাজনসহ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলোয় একের পর এক দাবানল হচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের বনাঞ্চলেও এখন এ ধরনের দাবানল লক্ষ করা যাচ্ছে। বনের কোনো এক প্রান্তে লাগা ছোট্ট অগ্নিকাণ্ডটিই সময় গেলে রূপ নিচ্ছে দাবানলে। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলায় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উন্নত সরঞ্জাম ও বিশেষায়িত হেলিকপ্টার প্রয়োজন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ধরনের প্রস্তুতি না নেয়া হলে বনের আগুন নিয়ন্ত্রণ ফায়ার সার্ভিসের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘দাবানল সবচেয়ে বেশি দেখা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার পর অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোয়। এজন্য তাদের বুশ ফায়ার বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে। তাদের রয়েছে দাবানল নিয়ন্ত্রণের বিশেষায়িত হেলিকপ্টার। এতে করে দ্রুততম সময়ে বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়া যায়।’

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে আগুনের সূত্রপাত হয় গত শনিবার রাতে। পূর্ব বন বিভাগের ভোলা নদী থেকে সোয়া দুই কিলোমিটার দূরে আমরবুনিয়া টহল ফাঁড়ির লতিফের ছিলা এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর আগের আগুনটি ছিল ২০২১ সালের মে মাসে পূর্ব সুন্দরবনে দাসের ভারানির পাশের অঞ্চলে। তিন বছরের ব্যবধানে লাগা দুটি আগুনই দাবানলে রূপ নিয়েছিল। বনের আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি শেষ পর্যন্ত সেই আগুন দাবানলেও রূপ নিতে পারে।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাইদুল আলম চৌধুরীর বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ধোঁয়া উড়তে দেখে তারা আমরবুনিয়া টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীদের জানান। দ্রুত বনরক্ষীরা অগ্নিকাণ্ডের এলাকায় ছুটে যান। পরে পার্শ্ববর্তী গ্রামে খবর দিলে শতাধিক লোক গিয়ে ফায়ার লেন কেটে আগুনের বিস্তৃতি রোধে চেষ্টা চালায়।

ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র উপসহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান সিকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের বর্তমানে কোনো ফরেস্ট ইউনিট নেই। বনের আগুন নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের ইউনিট প্রতিষ্ঠা করতে গেলে প্রয়োজন হয় ফায়ার ফাইটিং হেলিকপ্টারের। সে বিষয়ে এরই মধ্যে আলোচনা চলছে। জেনারেল হেলিকপ্টারের সঙ্গে ফায়ার ফাইটিং হেলিকপ্টারের কিছু বেসিক পার্থক্য রয়েছে। জেনারেল হেলিকপ্টারে বাতাসটা সরাসরি ভার্টিক্যালি নিচের দিকে যায়। আর ফায়ার ফাইটিং হেলিকপ্টারের বাতাসটা সরাসরি নিচে হিট না করে দুই পাশে দিয়ে দেয়। আমাদের দেশের বেশির ভাগ হেলিকপ্টার যাত্রী বহন এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহার শ্রেণীর। ফলে এগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে খুব বেশি কার্যকর নয়। এছাড়া বনের আগুন নিয়ন্ত্রণে পানির সরবরাহ একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। অনেক ক্ষেত্রে দু-তিন মাইল দূর থেকে পানির লাইন এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় পানির চাপ হ্রাস পায়। পাশাপাশি বনের মধ্যে সীমিত পরিসরে যান চলাচলের রাস্তা থাকা প্রয়োজন। রাস্তা না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু করতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়।’

ডিপজলের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই চলচ্চিত্র সমিতিতে

পাঁচ বছরে বনে আগুনের ঘটনা বেড়েছে তিন গুণ

আপডেট সময় ১০:৫০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪

দেশের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। সরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থা ফায়ার সার্ভিসের হিসাবেই গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশের বনজঙ্গলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তিন গুণ হয়েছে। এসব আগুনে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বনের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হওয়া ছোট আগুনও মুহূর্তেই রূপ নেয় দাবানলে। পুড়ে যায় একরের পর একর বনাঞ্চল। এ ধরনের আগুনে বিনষ্ট হয় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। উজাড় হয়ে যায় গাছপালা। বনের মধ্যে রাস্তা না থাকা, পানির সংকুলান না থাকাসহ সরঞ্জামের ঘাটতি বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশের বনাঞ্চলে আগুনের ঘটনা ছিল ৬৮টি। ক্ষতি হয়েছিল ৬ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকার। আর গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে দেশের বনাঞ্চলে আগুনের ঘটনা তিন গুণ বেড়ে হয় ১৯৬টি। আগুনে ক্ষতিও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে আগুনে বনের ক্ষতি বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৩ টাকায়। এর আগে ২০২২ সালে ১৪৬টি আগুনের ঘটনায় ক্ষতি হয় ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫০ টাকা। ২০২১ সালে দেশের বনজঙ্গলে মোট আগুনের ঘটনা ঘটে ১৬৫টি। এসব আগুনে বনের ক্ষতি হয় ২১ লাখ ৯৬ হাজার টাকার। ২০২০ সালে বনে ১৪৮টি আগুনের ঘটনায় ক্ষতি হয় ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৮১৪ টাকার।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (অপারেশন) পদে দায়িত্ব পালন শেষে সদ্য অবসরে গেছেন দেবাশীষ বর্ধন। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত তাপের জন্য যেমন অ্যামাজনসহ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলোয় একের পর এক দাবানল হচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের বনাঞ্চলেও এখন এ ধরনের দাবানল লক্ষ করা যাচ্ছে। বনের কোনো এক প্রান্তে লাগা ছোট্ট অগ্নিকাণ্ডটিই সময় গেলে রূপ নিচ্ছে দাবানলে। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলায় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উন্নত সরঞ্জাম ও বিশেষায়িত হেলিকপ্টার প্রয়োজন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ধরনের প্রস্তুতি না নেয়া হলে বনের আগুন নিয়ন্ত্রণ ফায়ার সার্ভিসের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘দাবানল সবচেয়ে বেশি দেখা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার পর অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোয়। এজন্য তাদের বুশ ফায়ার বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে। তাদের রয়েছে দাবানল নিয়ন্ত্রণের বিশেষায়িত হেলিকপ্টার। এতে করে দ্রুততম সময়ে বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়া যায়।’

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে আগুনের সূত্রপাত হয় গত শনিবার রাতে। পূর্ব বন বিভাগের ভোলা নদী থেকে সোয়া দুই কিলোমিটার দূরে আমরবুনিয়া টহল ফাঁড়ির লতিফের ছিলা এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর আগের আগুনটি ছিল ২০২১ সালের মে মাসে পূর্ব সুন্দরবনে দাসের ভারানির পাশের অঞ্চলে। তিন বছরের ব্যবধানে লাগা দুটি আগুনই দাবানলে রূপ নিয়েছিল। বনের আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি শেষ পর্যন্ত সেই আগুন দাবানলেও রূপ নিতে পারে।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাইদুল আলম চৌধুরীর বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ধোঁয়া উড়তে দেখে তারা আমরবুনিয়া টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীদের জানান। দ্রুত বনরক্ষীরা অগ্নিকাণ্ডের এলাকায় ছুটে যান। পরে পার্শ্ববর্তী গ্রামে খবর দিলে শতাধিক লোক গিয়ে ফায়ার লেন কেটে আগুনের বিস্তৃতি রোধে চেষ্টা চালায়।

ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র উপসহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান সিকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের বর্তমানে কোনো ফরেস্ট ইউনিট নেই। বনের আগুন নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের ইউনিট প্রতিষ্ঠা করতে গেলে প্রয়োজন হয় ফায়ার ফাইটিং হেলিকপ্টারের। সে বিষয়ে এরই মধ্যে আলোচনা চলছে। জেনারেল হেলিকপ্টারের সঙ্গে ফায়ার ফাইটিং হেলিকপ্টারের কিছু বেসিক পার্থক্য রয়েছে। জেনারেল হেলিকপ্টারে বাতাসটা সরাসরি ভার্টিক্যালি নিচের দিকে যায়। আর ফায়ার ফাইটিং হেলিকপ্টারের বাতাসটা সরাসরি নিচে হিট না করে দুই পাশে দিয়ে দেয়। আমাদের দেশের বেশির ভাগ হেলিকপ্টার যাত্রী বহন এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহার শ্রেণীর। ফলে এগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে খুব বেশি কার্যকর নয়। এছাড়া বনের আগুন নিয়ন্ত্রণে পানির সরবরাহ একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। অনেক ক্ষেত্রে দু-তিন মাইল দূর থেকে পানির লাইন এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় পানির চাপ হ্রাস পায়। পাশাপাশি বনের মধ্যে সীমিত পরিসরে যান চলাচলের রাস্তা থাকা প্রয়োজন। রাস্তা না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু করতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়।’