ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :
কুষ্টিয়ায় পুুকুরে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু মরদেহ ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবী পরিবারের চল্লিশ উর্ধ বয়সী স্কাউটারদের পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে যাত্রা বেইলি রোডে আগুনে প্রাণ গেল ২ সাংবাদিকের কাচ্চি ভাই নয়, নিচের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত: র‌্যাব বেইলি রোডে আগুন: মৃতের সংখ্যা বাড়ার কারণ জানালেন চিকিৎসক ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামের নির্মাণাধীন হিমাগারের আগুন বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রপতির শোক বেইলি রোডের আগুন লাগা বহুতল ভবনটিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না: প্রধানমন্ত্রী ভবনে ভেন্টিলেশন ছিল না, নিহতরা ধোঁয়ায় মারা গেছেন

‘চ্যালেঞ্জিং’ বছর পার করে নির্বাচনি অভিযাত্রায় আওয়ামী লীগ

কেন্দ্রীয় কমিটি গোছানোর মধ্য দিয়ে বছর শুরু করেছিল টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ। নির্বাচনি প্রস্তুতির এ বছরে বেশ চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে দলটি। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের চাপ, বিএনপি-জামায়াতকে রাজপথে মোকাবিলা করা, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কায় দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার মতো চ্যালেঞ্জিং বিষয় মোকাবিলা করেছে দলটি।

নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বছর শেষ করে এখন কেবলই নির্বাচনমুখী চিন্তা আওয়ামী লীগে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনি জনসভা সশরীর ও ভার্চুয়ালি নিয়মিত যুক্ত হয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তবে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করা নিয়ে এই মুহূর্তে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে দলটি। আর তাই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়ানো ও দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনমুখী যাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে ‌‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ শিরোনামে ইশতেহার ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি-জামায়াত। দীর্ঘদিনের আন্দোলন প্রস্তুতি শেষে গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু করে দলটি। তবে এরই মধ্যে গত নভেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচন বর্জনের ডাক দেয় বিএনপি-জামায়াত। সেই সময়ে নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ বাড়ানো নিয়ে খানিকটা বেকায়দায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে ২৭টি দল অংশ নিয়েছে। আর এতে এখন অনেকটাই নির্ভার সময় পার করছে আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ভাষ্য, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে। এই উন্নয়ন যেমন একদিকে সম্মানের, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জের। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকতে হবে। একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে।

বছরজুড়ে মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ:

২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সম্মেলনের দিন ৮১ সদস্যের কমিটির মধ্যে ৪৮টি পদে মনোনীত নেতাদের নাম ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা। পরে ১ জানুয়ারি রাতে ৭৮ জনের নাম চূড়ান্ত করে দলটি। এর মধ্য দিয়ে নতুন বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পূর্ণদ্যোমে শুরু করে আওয়ামী লীগ। এরপর ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল দলের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত নতুন কমিটির প্রথম বৈঠক।

১১ জানুয়ারি বিএনপির গণ-অবস্থান কর্মসূচির দিন আওয়ামী লীগের রাজধানীতে দুটি সমাবেশ করে মাঠের কর্মসূচিতে নামে দলটি। এরপরও ১৬ জানুয়ারিও সমাবেশ করে ক্ষমতাসীন দল। ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনীত করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ এ নিয়ে শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে দলের প্রার্থী করে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়।

কূটনৈতিক পাড়ায় যোগাযোগ বাড়ে ফেব্রুয়ারিতে। মার্কিন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সাথে নিয়মিত বৈঠক শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ মার্চ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় যান। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের আমন্ত্রণে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় দুই পক্ষের আলোচনা উঠে আসে।

এপ্রিল মাসে গাজীপুর, বরিশাল, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। বিএনপিকে প্রতিরোধ বছরের শুরু থেকে বিএনপির কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে ‘শান্তি সমাবেশ’ করে আসলেও মে মাসে বিএনপিকে রাজপথে প্রতিরোধের করার ঘোষণা দেয় দলটি। বিএনপিকে আর কোনো ছাড় না দেয়ার মতো কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায় আওয়ামী লীগকে। এদিকে ২৪ মে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সহায়তার লক্ষ্যে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। মার্কিন ভিসা নীতির পর জুন মাস জুড়ে রাজনীতির মাঠ দখলের চেষ্টা করছে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। এসময়ে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও।

১ জুন টানা ১৫ বার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাবের রেকর্ড করে আওয়ামী লীগ। ‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় সংসদে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করে আওয়ামী লীগ সরকার। ১২ জুন বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনায় শতভাগ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হলেও বরিশালে বিচ্ছিন্নভাবে একটি কেন্দ্রে হাতপাখার মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় কিছুক্ষণের জন্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

২২ জুন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নির্বাচনের আগে জেলা-উপজেলায় আর সম্মেলন না করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। ২৩ জুন ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক দল। জুলাই মাসজুড়ে রাজপথ দখলের লড়াইয়ে ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আলোচনা সভা, স্মরণ সভাসহ নানা অনুষ্ঠানে শোকের মাস যথাযথ মর্যাদায় পালন করে আওয়ামী লীগ। তবে মাসের শেষে বিএনপি কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে নামায় আওয়ামী লীগও রাজপথের কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামে। ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের আয়োজনে তারুণ্যের সমাবেশ এবং দ্বিতীয় দিন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সুধী সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউন দেয় আওয়ামী লীগ।

বিএনপির লাগাতার আন্দোলনের জবাবে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও ঢাকার বাইরে টানা কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এই সেপ্টেম্বরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারকাজের জন্য ‘মাস্টার ট্রেইনারদের’ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করে দলটি। গঠন করা হয় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি।

অক্টোবর মাসে রাজপথ দখলের লড়াইয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ২৮ অক্টোবর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করে দলটি। অন্যদিকে নয়াপল্টনে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। হামলা করা হয় প্রধান বিচারপতির বাসভবন গেট সহ নানা স্থাপনায়। আহত হন ৩০ এর অধিক সাংবাদিক। সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় শুরু হলে হরতালের ডাক দেয় দলটি। ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি। অবরোধের প্রথম দিন থেকে বিএনপির হরতাল-অবরোধের দিনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও মিছিল-অবস্থান কর্মসূচিতে রাজপথ দখলে রাখার কর্মসূচিতে নামেন।

১৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে গেলেও রাজপথের কর্মসূচি থেকে সরে আসে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম কিনেন ৩ হাজার ৩৬২ জন।

২৬ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে গণভবনে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠেকাতে বিকল্প প্রার্থী রাখার পরামর্শ তিনি। এছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপ প্রয়োগ না করতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্দেশ দেন।

২৬ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে ২৯৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর থেকে শুরু হয় ১৪ দলীয় জোট শরিক ও জাতীয় পার্টির মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দরকষাকষি। শেষ পর্যন্ত ৩০০ আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টিকে ২৬টি এবং ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের ৬টি আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ শিরোনামে ইশতেহার ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। স্মার্ট বাংলাদেশ শিরোনামে এবারের ইশতেহারের প্রতিপাদ্য ‘উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’। ইশতেহার উপস্থাপন ও ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সারা বছরই শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ, দিবসভিত্তিক কর্মসূচিসহ নানা ইস্যুতে নিয়ে সক্রিয় ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চায় আওয়ামী লীগ। সেই লক্ষ্যে কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

এদিকে, শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এই নির্বাচনকে আমরা ব্যর্থ হতে দিব না। নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ। এই চ্যালেঞ্জ আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতিক্রম করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার জন্য সারা বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের যার যার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাবো।

দৌলতপুরে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরন

‘চ্যালেঞ্জিং’ বছর পার করে নির্বাচনি অভিযাত্রায় আওয়ামী লীগ

আপডেট সময় ১১:২০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩

কেন্দ্রীয় কমিটি গোছানোর মধ্য দিয়ে বছর শুরু করেছিল টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ। নির্বাচনি প্রস্তুতির এ বছরে বেশ চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে দলটি। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের চাপ, বিএনপি-জামায়াতকে রাজপথে মোকাবিলা করা, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কায় দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার মতো চ্যালেঞ্জিং বিষয় মোকাবিলা করেছে দলটি।

নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বছর শেষ করে এখন কেবলই নির্বাচনমুখী চিন্তা আওয়ামী লীগে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনি জনসভা সশরীর ও ভার্চুয়ালি নিয়মিত যুক্ত হয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তবে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করা নিয়ে এই মুহূর্তে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে দলটি। আর তাই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়ানো ও দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনমুখী যাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে ‌‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ শিরোনামে ইশতেহার ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি-জামায়াত। দীর্ঘদিনের আন্দোলন প্রস্তুতি শেষে গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু করে দলটি। তবে এরই মধ্যে গত নভেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচন বর্জনের ডাক দেয় বিএনপি-জামায়াত। সেই সময়ে নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ বাড়ানো নিয়ে খানিকটা বেকায়দায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে ২৭টি দল অংশ নিয়েছে। আর এতে এখন অনেকটাই নির্ভার সময় পার করছে আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ভাষ্য, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে। এই উন্নয়ন যেমন একদিকে সম্মানের, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জের। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকতে হবে। একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে।

বছরজুড়ে মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ:

২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সম্মেলনের দিন ৮১ সদস্যের কমিটির মধ্যে ৪৮টি পদে মনোনীত নেতাদের নাম ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা। পরে ১ জানুয়ারি রাতে ৭৮ জনের নাম চূড়ান্ত করে দলটি। এর মধ্য দিয়ে নতুন বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পূর্ণদ্যোমে শুরু করে আওয়ামী লীগ। এরপর ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল দলের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত নতুন কমিটির প্রথম বৈঠক।

১১ জানুয়ারি বিএনপির গণ-অবস্থান কর্মসূচির দিন আওয়ামী লীগের রাজধানীতে দুটি সমাবেশ করে মাঠের কর্মসূচিতে নামে দলটি। এরপরও ১৬ জানুয়ারিও সমাবেশ করে ক্ষমতাসীন দল। ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনীত করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ এ নিয়ে শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে দলের প্রার্থী করে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়।

কূটনৈতিক পাড়ায় যোগাযোগ বাড়ে ফেব্রুয়ারিতে। মার্কিন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সাথে নিয়মিত বৈঠক শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ মার্চ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় যান। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের আমন্ত্রণে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় দুই পক্ষের আলোচনা উঠে আসে।

এপ্রিল মাসে গাজীপুর, বরিশাল, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। বিএনপিকে প্রতিরোধ বছরের শুরু থেকে বিএনপির কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে ‘শান্তি সমাবেশ’ করে আসলেও মে মাসে বিএনপিকে রাজপথে প্রতিরোধের করার ঘোষণা দেয় দলটি। বিএনপিকে আর কোনো ছাড় না দেয়ার মতো কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায় আওয়ামী লীগকে। এদিকে ২৪ মে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সহায়তার লক্ষ্যে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। মার্কিন ভিসা নীতির পর জুন মাস জুড়ে রাজনীতির মাঠ দখলের চেষ্টা করছে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। এসময়ে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও।

১ জুন টানা ১৫ বার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাবের রেকর্ড করে আওয়ামী লীগ। ‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় সংসদে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করে আওয়ামী লীগ সরকার। ১২ জুন বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনায় শতভাগ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হলেও বরিশালে বিচ্ছিন্নভাবে একটি কেন্দ্রে হাতপাখার মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় কিছুক্ষণের জন্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

২২ জুন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নির্বাচনের আগে জেলা-উপজেলায় আর সম্মেলন না করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। ২৩ জুন ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক দল। জুলাই মাসজুড়ে রাজপথ দখলের লড়াইয়ে ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আলোচনা সভা, স্মরণ সভাসহ নানা অনুষ্ঠানে শোকের মাস যথাযথ মর্যাদায় পালন করে আওয়ামী লীগ। তবে মাসের শেষে বিএনপি কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে নামায় আওয়ামী লীগও রাজপথের কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামে। ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের আয়োজনে তারুণ্যের সমাবেশ এবং দ্বিতীয় দিন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সুধী সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউন দেয় আওয়ামী লীগ।

বিএনপির লাগাতার আন্দোলনের জবাবে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও ঢাকার বাইরে টানা কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এই সেপ্টেম্বরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারকাজের জন্য ‘মাস্টার ট্রেইনারদের’ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করে দলটি। গঠন করা হয় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি।

অক্টোবর মাসে রাজপথ দখলের লড়াইয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ২৮ অক্টোবর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করে দলটি। অন্যদিকে নয়াপল্টনে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। হামলা করা হয় প্রধান বিচারপতির বাসভবন গেট সহ নানা স্থাপনায়। আহত হন ৩০ এর অধিক সাংবাদিক। সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় শুরু হলে হরতালের ডাক দেয় দলটি। ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি। অবরোধের প্রথম দিন থেকে বিএনপির হরতাল-অবরোধের দিনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও মিছিল-অবস্থান কর্মসূচিতে রাজপথ দখলে রাখার কর্মসূচিতে নামেন।

১৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে গেলেও রাজপথের কর্মসূচি থেকে সরে আসে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম কিনেন ৩ হাজার ৩৬২ জন।

২৬ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে গণভবনে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠেকাতে বিকল্প প্রার্থী রাখার পরামর্শ তিনি। এছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপ প্রয়োগ না করতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্দেশ দেন।

২৬ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে ২৯৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর থেকে শুরু হয় ১৪ দলীয় জোট শরিক ও জাতীয় পার্টির মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দরকষাকষি। শেষ পর্যন্ত ৩০০ আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টিকে ২৬টি এবং ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের ৬টি আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ শিরোনামে ইশতেহার ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। স্মার্ট বাংলাদেশ শিরোনামে এবারের ইশতেহারের প্রতিপাদ্য ‘উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’। ইশতেহার উপস্থাপন ও ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সারা বছরই শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ, দিবসভিত্তিক কর্মসূচিসহ নানা ইস্যুতে নিয়ে সক্রিয় ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চায় আওয়ামী লীগ। সেই লক্ষ্যে কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

এদিকে, শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এই নির্বাচনকে আমরা ব্যর্থ হতে দিব না। নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ। এই চ্যালেঞ্জ আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতিক্রম করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার জন্য সারা বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের যার যার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাবো।