ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাকরিতে বেতন সমঝোতায় যেভাবে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করবেন

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪
  • 18

চাকরির ক্ষেত্রে কাজের ধরণ এবং বেতন এই দুইটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে চাকরিতে জয়েন করার আগে এই দুইটা বিষয়ে স্পষ্ট হয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে নতুন চাকরিতে জয়েন করার আগেই সারতে হয় বেতন নির্ধারণের পর্ব। অনেকেই খুব নার্ভাস থাকেন চারকির বেতনের আলাপ নিয়ে কারণ এখানে আপনার কথা বলার ওপর নির্ভর করবে আপনার চাকরি আর বেতন। তাই কয়েকটি বিষয় এই সময় খেয়াল রাখতে হবে। চাকরির বেতন সমঝোতা সংক্রান্ত বিভিন্ন টিপস উঠে এসেছে ফোবস ম্যাগাজিনের মাধ্যমে। চাকরিতে জয়েন করার আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন সে বিষয়গুলো হলো:
সম্ভাব্য বেতন জেনে নেয়া: আপনি যে প্রতিষ্ঠানে জয়েন করতে চাচ্ছেন তারা আপনার পদের জন্য কত বেতন দিতে যাচ্ছে সেটা আগে থেকেই জেনে নিবেন। যদি পরিচিতের মাধ্যমে জানতে পারেন, আপনি যে বেতন আশা করছেন, কোম্পানি হয়তো আপনার পদের জন্য তার চেয়ে বেশি-ই বরাদ্দ রেখেছে। পরিচিত কারোর মাধ্যমে কিংবা আগে যারা ওই অফিসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের মাধ্যমে আগেই জেনে নিতে পারেন সম্ভাব্য বেতন। সবটা জেনে নিজের নিজের অভিজ্ঞতা বুঝে বেতন চাইতে হবে আপনাকে।
বেতন শুনে সিদ্ধান্ত দিন: প্রতিষ্ঠান আপনাকে যে বেতন দিতে যাচ্ছে তার সঙ্গে আপনার প্রত্যাশার বড় ফারাক থাকলে সমঝোতা আশা করবেন না। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দকৃত বেতন খুব একটা বাড়ে না। কাজ ভালো লাগায় চাকরির জন্য রাজি আছেন বলার পর বেতনের অঙ্ক বাড়ানোর কথা বলা বোকামি। কাজ এবং বেতন দুই বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

স্মার্ট সিদ্ধান্ত: যদি বেতন শুনে আপনার মনে হয় আপনার জন্য অফারটা ঠিক আছে তাহলে অযথা দর কষাকষি করবেন না। এতে করে হিতে বিপরীত হতে পারে। আবার যদি আপনার মনে হয় তারা যে বেতন আর সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সেটা আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য না তাহলে কথা চালিয়ে যাওয়া বোকামি।

বেতনের সমঝোতার সময় যে কথা এড়িয়ে যাবেন

একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে আপনার কথা বলার ধরণ অনেক কিছু ঠিক করে দেয়। আর আপনি যখন চাকরির বেতন সমঝোতা করছেন তখন নিজের বিষয়ে আপনাকে খুব স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। কনফিডেন্স ধরে রেখে আলাপ চালিয়ে যেতে হবে। অনেক সময় আমরা চাকরির সমঝোতার সময় এমন কিছু কথা বলে ফেলি যেটা উচিত না। কোন কথাগুলো বলা যাবে না বেতন সমঝোতার সময় তার কিছু দেয়া হলো:

১. প্রস্তাবটি গ্রহণ করলাম

সব ঠিক থাকলে অফাস লেটার পাওয়ার পর বলা যাবে না যে, আমি আপনাদের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। সবার আগে আপনাকে ধন্যবাদ দিতে হবে। কাজের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইবেন, ছুটির বিষয়ও জেনে নেয়া ভালো। এতে করে হুট করে নতুন কিছু আপনাকে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না সহজে। সব বিস্তারিত জেনেই অফার লেটার গ্রহণ করবেন।

২. মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের কথা যে অবস্থা

অনেকেই বেতন সমঝোতার সময় দ্রব্যমূল্যে এবং মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আসেন যেটা শুনতে ভালো লাগে না। চাকরির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিষয় না তুলে ধরে আপনার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বেতন প্রত্যাশা করা উচিত। আপনি বলতে পারেন, আমার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা মিলিয়ে আপনাদের কাজের জন্য নিজেকে সঠিক ব্যক্তি হিসেবে আমি মনে করছি। অবে আমাকে যে বেতন অফার করা হয়েছে, সেটা আমার কাজের তুলনায় উপযুক্ত নয়। এরপর আপনি যে অফিসে কর্মরত আছেন সেটার বেতনের সঙ্গে মিল রেখে পুনরায় বিবেচনা করার প্রস্তাব রাখতে পারেন।

৩. প্রফেশনাল ভাবে বেতন বাড়াতে বলুন

অনেকেই সরাসরি যে বেতন চান সেটা বলে বসেন, এটা প্রফেশনাল ব্যবহারের ভেতর পরে না। প্রফেশনাল ভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা এবং এই দায়িত্বের যোগ্যতা অনুসারে যে বেতন চাইছেন সেটার প্রস্তাব রাখুন। এরপর তাদের কাছে জানতে চান তাদের বেতন কাঠামোর ভেতর এটা সম্ভব কিনা।
অফিসে জয়েন করার আগে বেতনের পাশাপাশি বোনাস, ইনক্রিমেন্ট ও ওভার টাইম ডিউটির জন্য বাড়তি টাকা পাওয়ার সুবিধা কেমন। এ সব জেনে নিন। মাসের কত তারিখে বেতন হয় সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেশি বেতনে চাকরি নিলেন কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান আপনাকে ঠিক মত বেতন দিতে পারলো না তাহলে সে চাকরি না করাই ভালো। চাকরির নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

চাকরিতে বেতন সমঝোতায় যেভাবে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করবেন

আপডেট সময় ১২:০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

চাকরির ক্ষেত্রে কাজের ধরণ এবং বেতন এই দুইটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে চাকরিতে জয়েন করার আগে এই দুইটা বিষয়ে স্পষ্ট হয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে নতুন চাকরিতে জয়েন করার আগেই সারতে হয় বেতন নির্ধারণের পর্ব। অনেকেই খুব নার্ভাস থাকেন চারকির বেতনের আলাপ নিয়ে কারণ এখানে আপনার কথা বলার ওপর নির্ভর করবে আপনার চাকরি আর বেতন। তাই কয়েকটি বিষয় এই সময় খেয়াল রাখতে হবে। চাকরির বেতন সমঝোতা সংক্রান্ত বিভিন্ন টিপস উঠে এসেছে ফোবস ম্যাগাজিনের মাধ্যমে। চাকরিতে জয়েন করার আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন সে বিষয়গুলো হলো:
সম্ভাব্য বেতন জেনে নেয়া: আপনি যে প্রতিষ্ঠানে জয়েন করতে চাচ্ছেন তারা আপনার পদের জন্য কত বেতন দিতে যাচ্ছে সেটা আগে থেকেই জেনে নিবেন। যদি পরিচিতের মাধ্যমে জানতে পারেন, আপনি যে বেতন আশা করছেন, কোম্পানি হয়তো আপনার পদের জন্য তার চেয়ে বেশি-ই বরাদ্দ রেখেছে। পরিচিত কারোর মাধ্যমে কিংবা আগে যারা ওই অফিসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের মাধ্যমে আগেই জেনে নিতে পারেন সম্ভাব্য বেতন। সবটা জেনে নিজের নিজের অভিজ্ঞতা বুঝে বেতন চাইতে হবে আপনাকে।
বেতন শুনে সিদ্ধান্ত দিন: প্রতিষ্ঠান আপনাকে যে বেতন দিতে যাচ্ছে তার সঙ্গে আপনার প্রত্যাশার বড় ফারাক থাকলে সমঝোতা আশা করবেন না। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দকৃত বেতন খুব একটা বাড়ে না। কাজ ভালো লাগায় চাকরির জন্য রাজি আছেন বলার পর বেতনের অঙ্ক বাড়ানোর কথা বলা বোকামি। কাজ এবং বেতন দুই বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

স্মার্ট সিদ্ধান্ত: যদি বেতন শুনে আপনার মনে হয় আপনার জন্য অফারটা ঠিক আছে তাহলে অযথা দর কষাকষি করবেন না। এতে করে হিতে বিপরীত হতে পারে। আবার যদি আপনার মনে হয় তারা যে বেতন আর সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সেটা আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য না তাহলে কথা চালিয়ে যাওয়া বোকামি।

বেতনের সমঝোতার সময় যে কথা এড়িয়ে যাবেন

একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে আপনার কথা বলার ধরণ অনেক কিছু ঠিক করে দেয়। আর আপনি যখন চাকরির বেতন সমঝোতা করছেন তখন নিজের বিষয়ে আপনাকে খুব স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। কনফিডেন্স ধরে রেখে আলাপ চালিয়ে যেতে হবে। অনেক সময় আমরা চাকরির সমঝোতার সময় এমন কিছু কথা বলে ফেলি যেটা উচিত না। কোন কথাগুলো বলা যাবে না বেতন সমঝোতার সময় তার কিছু দেয়া হলো:

১. প্রস্তাবটি গ্রহণ করলাম

সব ঠিক থাকলে অফাস লেটার পাওয়ার পর বলা যাবে না যে, আমি আপনাদের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। সবার আগে আপনাকে ধন্যবাদ দিতে হবে। কাজের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইবেন, ছুটির বিষয়ও জেনে নেয়া ভালো। এতে করে হুট করে নতুন কিছু আপনাকে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না সহজে। সব বিস্তারিত জেনেই অফার লেটার গ্রহণ করবেন।

২. মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের কথা যে অবস্থা

অনেকেই বেতন সমঝোতার সময় দ্রব্যমূল্যে এবং মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আসেন যেটা শুনতে ভালো লাগে না। চাকরির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিষয় না তুলে ধরে আপনার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বেতন প্রত্যাশা করা উচিত। আপনি বলতে পারেন, আমার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা মিলিয়ে আপনাদের কাজের জন্য নিজেকে সঠিক ব্যক্তি হিসেবে আমি মনে করছি। অবে আমাকে যে বেতন অফার করা হয়েছে, সেটা আমার কাজের তুলনায় উপযুক্ত নয়। এরপর আপনি যে অফিসে কর্মরত আছেন সেটার বেতনের সঙ্গে মিল রেখে পুনরায় বিবেচনা করার প্রস্তাব রাখতে পারেন।

৩. প্রফেশনাল ভাবে বেতন বাড়াতে বলুন

অনেকেই সরাসরি যে বেতন চান সেটা বলে বসেন, এটা প্রফেশনাল ব্যবহারের ভেতর পরে না। প্রফেশনাল ভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা এবং এই দায়িত্বের যোগ্যতা অনুসারে যে বেতন চাইছেন সেটার প্রস্তাব রাখুন। এরপর তাদের কাছে জানতে চান তাদের বেতন কাঠামোর ভেতর এটা সম্ভব কিনা।
অফিসে জয়েন করার আগে বেতনের পাশাপাশি বোনাস, ইনক্রিমেন্ট ও ওভার টাইম ডিউটির জন্য বাড়তি টাকা পাওয়ার সুবিধা কেমন। এ সব জেনে নিন। মাসের কত তারিখে বেতন হয় সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেশি বেতনে চাকরি নিলেন কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান আপনাকে ঠিক মত বেতন দিতে পারলো না তাহলে সে চাকরি না করাই ভালো। চাকরির নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।