ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উপজেলা নির্বাচন : দ্বিতীয় ধাপের প্রচারেও সংঘাত-সহিংসতা

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪
  • 5

প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ভোটের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় এ সহিংসতার মাত্রা বাড়ছে। ফলে নির্বাচন কেন্দ্র করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও মাঠ প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ২১ মে, মঙ্গলবার ১৫৭টি উপজেলায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মাঠ পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, প্রথম ধাপের ভোটের পর দ্বিতীয় ধাপের প্রচার-প্রচারণাও প্রায় শেষের দিকে। ভোটের ৩৬ ঘণ্টা আগে আগামীকাল রোববার রাতেই আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হচ্ছে। শেষ মুহূর্তের প্রচার কেন্দ্র করে বিভিন্ন উপজেলা চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। চতুর্থ ধাপের ভোট নিয়েও অনানুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা চলছে। ফলে এসব নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো উপজেলায় সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কোথাও কোথাও হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এর আগে প্রথম ধাপের ভোট কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশব্যাপী বিক্ষিপ্ত সহিংসতা হয় ভোটের দিনও। ওইদিন সারা দেশে অন্তত শখানেক আহত হলেও সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল এ সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জন বলে জানিয়েছেন।

সর্বশেষ বুধবার রাতে পটুয়াখালীর বাউফলে আনারস ও ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রার্থীর এক কর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় কুপিয়ে আহত করা হয় কয়েকজনকে। তার আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আইয়ুব আলী বেপারি তার কর্মী-সমর্থকদের মারধরসহ ভোটের দিন কেন্দ্র দখলের হুমকি-ধামকির অভিযোগ করেন।

এর আগে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নির্বাচনী সহিংসতায় পরাজিত প্রার্থী বদিউজ্জামান ফকিরের চাচা আব্দুল আলিম নিহত হন। গত ১২ মে রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত ১ মে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মতিগাছা গ্রামে দুই উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী তানভীর ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম কামালের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, এ উপজেলায় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় ততই উত্তেজনা বাড়ছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছে। কে বা কারা রাতের আঁধারে তিন রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে তার গাড়ি লক্ষ্য করে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ঘটনাটি ফোনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদীসহ একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। তবে রাত ১২টা পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবু ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠিয়েছি ঘটনা তদন্ত করে দেখতে।’

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ধামরাইয়ে দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে তালা দেওয়া ও প্রার্থীকে লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় আনারস প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে তালা দেওয়া হয়। মোটরসাইকেল সমর্থিত আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার হোসেন মেছের শিকদারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া নির্বাচনী ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় আনারস প্রতীকের প্রার্থীকে মোটরসাইকেল সমর্থিতরা লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করেন বলে জানা যায়।

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি জানান, শার্শায় নির্বাচনী অফিস করাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গোগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদসহ ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোগা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নাভারন সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান বলেন, এ ঘটনায় রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠিতে আনারস প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে ২২ জনের নামে দ্রুতবিচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দোয়াত-কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আনারস প্রতীকের কর্মী সৈয়দ এনামুল হক জুয়েল বাদী হয়ে সদর থানায় বুধবার বিকেলে এ মামলা করেন।

এর আগে চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের পথসভায় হামলায় সুলতান হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরের দিন বুধবার তার ভাই হেমায়েত উদ্দিন খান বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খান আরিফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। এ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলা নির্বাচনে প্রতিপক্ষের হাতে জখম হয়েছেন শাহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ খান মাহামুদ। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে গোপিকান্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনী প্রতিহিংসার জের ধরে দুপক্ষের মধ্যে সহিংস ঘটনায় এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শাপলাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনারস প্রতীকের সমর্থকরা ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক ও ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান সুমনকে ঘটনাস্থলে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সুমন বগা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য। এর আগে বুধবার রাতে ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা রাজনগর এলাকায় আনারস প্রতীকের সমর্থকদের ধাওয়া করে।

জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের কুদ্দুস বেপারী হাই স্কুল মাঠের পাশে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজীর (মোটরসাইকেল প্রতীক) গণসংযোগকালে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে ইসি সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইসির এক বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ওই বৈঠকে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারাও। তারা বলেন, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা প্রার্থী না থাকায় অনেক এলাকায় প্রভাবশালী একাধিক নেতা বা তাদের সমর্থকরা প্রার্থী হয়েছেন। তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে এসব উপজেলায় সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া কোনো কোনো উপজেলায় দলের নির্দেশনা অমান্য করে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের কিছু নেতাও প্রার্থী হয়েছেন। সেসব উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় নির্বাচনে সবসময়ই কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রথম ধাপের ভোটেও হয়েছে, তা কতটুকু, সেটি আসল বিষয়। জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। সে লক্ষ্যে যা যা করার সবই করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে ইসির পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে ইসি। এই সেলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থার প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়েছে। মনিটরিং সেল নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ইসিকে অবহিত করবে। সেইসঙ্গে সেলে অন্তর্ভুক্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা আইনশৃঙ্খলা সদস্যদের অবস্থান ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে কমিশনকে জানাবেন। এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপের ভোটের জন্য ১৫৭ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে ইসি। ভোট গ্রহণের আগের দুদিন, ভোট গ্রহণের দিন ও ভোট গ্রহণের পরের দুদিন (১৯ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত) পাঁচ দিনের জন্য ১৫৭ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করবেন।

উপজেলা নির্বাচন : দ্বিতীয় ধাপের প্রচারেও সংঘাত-সহিংসতা

আপডেট সময় ১১:৪১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ভোটের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় এ সহিংসতার মাত্রা বাড়ছে। ফলে নির্বাচন কেন্দ্র করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও মাঠ প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ২১ মে, মঙ্গলবার ১৫৭টি উপজেলায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মাঠ পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, প্রথম ধাপের ভোটের পর দ্বিতীয় ধাপের প্রচার-প্রচারণাও প্রায় শেষের দিকে। ভোটের ৩৬ ঘণ্টা আগে আগামীকাল রোববার রাতেই আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হচ্ছে। শেষ মুহূর্তের প্রচার কেন্দ্র করে বিভিন্ন উপজেলা চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। চতুর্থ ধাপের ভোট নিয়েও অনানুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা চলছে। ফলে এসব নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো উপজেলায় সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কোথাও কোথাও হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এর আগে প্রথম ধাপের ভোট কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশব্যাপী বিক্ষিপ্ত সহিংসতা হয় ভোটের দিনও। ওইদিন সারা দেশে অন্তত শখানেক আহত হলেও সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল এ সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জন বলে জানিয়েছেন।

সর্বশেষ বুধবার রাতে পটুয়াখালীর বাউফলে আনারস ও ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রার্থীর এক কর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় কুপিয়ে আহত করা হয় কয়েকজনকে। তার আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আইয়ুব আলী বেপারি তার কর্মী-সমর্থকদের মারধরসহ ভোটের দিন কেন্দ্র দখলের হুমকি-ধামকির অভিযোগ করেন।

এর আগে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নির্বাচনী সহিংসতায় পরাজিত প্রার্থী বদিউজ্জামান ফকিরের চাচা আব্দুল আলিম নিহত হন। গত ১২ মে রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত ১ মে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মতিগাছা গ্রামে দুই উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী তানভীর ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম কামালের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, এ উপজেলায় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় ততই উত্তেজনা বাড়ছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছে। কে বা কারা রাতের আঁধারে তিন রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে তার গাড়ি লক্ষ্য করে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ঘটনাটি ফোনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদীসহ একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। তবে রাত ১২টা পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবু ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠিয়েছি ঘটনা তদন্ত করে দেখতে।’

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ধামরাইয়ে দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে তালা দেওয়া ও প্রার্থীকে লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় আনারস প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে তালা দেওয়া হয়। মোটরসাইকেল সমর্থিত আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার হোসেন মেছের শিকদারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া নির্বাচনী ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় আনারস প্রতীকের প্রার্থীকে মোটরসাইকেল সমর্থিতরা লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করেন বলে জানা যায়।

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি জানান, শার্শায় নির্বাচনী অফিস করাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গোগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদসহ ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোগা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নাভারন সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান বলেন, এ ঘটনায় রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠিতে আনারস প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে ২২ জনের নামে দ্রুতবিচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দোয়াত-কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আনারস প্রতীকের কর্মী সৈয়দ এনামুল হক জুয়েল বাদী হয়ে সদর থানায় বুধবার বিকেলে এ মামলা করেন।

এর আগে চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের পথসভায় হামলায় সুলতান হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরের দিন বুধবার তার ভাই হেমায়েত উদ্দিন খান বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খান আরিফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। এ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলা নির্বাচনে প্রতিপক্ষের হাতে জখম হয়েছেন শাহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ খান মাহামুদ। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে গোপিকান্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনী প্রতিহিংসার জের ধরে দুপক্ষের মধ্যে সহিংস ঘটনায় এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শাপলাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনারস প্রতীকের সমর্থকরা ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক ও ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান সুমনকে ঘটনাস্থলে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সুমন বগা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য। এর আগে বুধবার রাতে ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা রাজনগর এলাকায় আনারস প্রতীকের সমর্থকদের ধাওয়া করে।

জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের কুদ্দুস বেপারী হাই স্কুল মাঠের পাশে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজীর (মোটরসাইকেল প্রতীক) গণসংযোগকালে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে ইসি সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইসির এক বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ওই বৈঠকে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারাও। তারা বলেন, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা প্রার্থী না থাকায় অনেক এলাকায় প্রভাবশালী একাধিক নেতা বা তাদের সমর্থকরা প্রার্থী হয়েছেন। তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে এসব উপজেলায় সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া কোনো কোনো উপজেলায় দলের নির্দেশনা অমান্য করে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের কিছু নেতাও প্রার্থী হয়েছেন। সেসব উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় নির্বাচনে সবসময়ই কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রথম ধাপের ভোটেও হয়েছে, তা কতটুকু, সেটি আসল বিষয়। জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। সে লক্ষ্যে যা যা করার সবই করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে ইসির পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে ইসি। এই সেলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থার প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়েছে। মনিটরিং সেল নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ইসিকে অবহিত করবে। সেইসঙ্গে সেলে অন্তর্ভুক্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা আইনশৃঙ্খলা সদস্যদের অবস্থান ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে কমিশনকে জানাবেন। এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপের ভোটের জন্য ১৫৭ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে ইসি। ভোট গ্রহণের আগের দুদিন, ভোট গ্রহণের দিন ও ভোট গ্রহণের পরের দুদিন (১৯ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত) পাঁচ দিনের জন্য ১৫৭ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করবেন।