ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অবৈধ প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪
  • 11

London symbols with BIG BEN, DOUBLE DECKER BUSES and Red Phone Booth in England, UK

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১১  হাজার বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি চুক্তিও হয়েছে। আশ্রয়ের আবেদন খারিজ হওয়ায় এ চুক্তির আওতায় দ্রুতই  তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

গত বছরের মার্চ থেকে আগের ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকারী বাংলাদেশীদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশের আবেদন মঞ্জুর করেছে দেশটির সরকার। বাকিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ব্রিটিশ পক্ষে সই করেন দেশটির অবৈধ অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল টমলিনসন।

চুক্তি অনুযায়ী শুধু আশ্রয়ের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তি নয়, অপরাধী ও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া অভিবাসীদেরও দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।

মাইকেল টমলিনসন বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের মূল্যবান অংশীদার বাংলাদেশ। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যে অভিবাসনসহ অন্যান্য ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের চুক্তি যে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তার সুস্পষ্ট প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে।’

চলতি সপ্তাহে লন্ডনে অনুষ্ঠিত দুই দেশের প্রথম যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে উভয় দেশ অংশীদারত্ব জোরদারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ে সহযোগিতা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এদিকে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশন গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৃহস্পতিবার দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায় এ বিষয়ে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস’ (এসওপি) সই হয়েছে। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খায়রুল কবির মেনন। যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিষয়ক মহাপরিচালক বেস জাভিদ।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ থেকে আগের ১২ মাসে যারা ভিসার নিয়ম ভেঙে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, প্রায় ১১ হাজার। তারা শিক্ষার্থী, শ্রমিক বা ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। 

বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবৈধ অভিবাসীদের ফেরাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের এসওপি সই হয়। ওই চুক্তির ধারাবাহিকতায় এবারের এসওপি সই হয়েছে।

জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতির কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার মুনা তাসনীম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশীর সংখ্যা খুব সামান্য।’

গত মাসে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু নথি ফাঁস হয়, যেখানে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্য রয়েছে। তাতে দেখা যায়, সে বছর যুক্তরাজ্য যাওয়ার পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন ২১ হাজার ৫২৫ জন।

অবৈধ প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য

আপডেট সময় ১১:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১১  হাজার বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি চুক্তিও হয়েছে। আশ্রয়ের আবেদন খারিজ হওয়ায় এ চুক্তির আওতায় দ্রুতই  তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

গত বছরের মার্চ থেকে আগের ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকারী বাংলাদেশীদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশের আবেদন মঞ্জুর করেছে দেশটির সরকার। বাকিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ব্রিটিশ পক্ষে সই করেন দেশটির অবৈধ অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল টমলিনসন।

চুক্তি অনুযায়ী শুধু আশ্রয়ের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তি নয়, অপরাধী ও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া অভিবাসীদেরও দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।

মাইকেল টমলিনসন বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের মূল্যবান অংশীদার বাংলাদেশ। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যে অভিবাসনসহ অন্যান্য ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের চুক্তি যে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তার সুস্পষ্ট প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে।’

চলতি সপ্তাহে লন্ডনে অনুষ্ঠিত দুই দেশের প্রথম যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে উভয় দেশ অংশীদারত্ব জোরদারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ে সহযোগিতা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এদিকে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশন গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৃহস্পতিবার দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায় এ বিষয়ে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস’ (এসওপি) সই হয়েছে। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খায়রুল কবির মেনন। যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিষয়ক মহাপরিচালক বেস জাভিদ।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ থেকে আগের ১২ মাসে যারা ভিসার নিয়ম ভেঙে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, প্রায় ১১ হাজার। তারা শিক্ষার্থী, শ্রমিক বা ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। 

বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবৈধ অভিবাসীদের ফেরাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের এসওপি সই হয়। ওই চুক্তির ধারাবাহিকতায় এবারের এসওপি সই হয়েছে।

জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতির কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার মুনা তাসনীম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশীর সংখ্যা খুব সামান্য।’

গত মাসে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু নথি ফাঁস হয়, যেখানে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্য রয়েছে। তাতে দেখা যায়, সে বছর যুক্তরাজ্য যাওয়ার পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন ২১ হাজার ৫২৫ জন।