ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাস্তায় পানি, যানবাহন–সংকট আর বেশি ভাড়ার চাপে নাকাল ঢাকাবাসী

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে রাজধানী ঢাকায় আজ সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। একটানা চলা এই বৃষ্টি কখনো বাড়ছে, কখনো কিছুটা কমছে। সঙ্গে রয়েছে ঝোড়ো বাতাস। ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মক্ষেত্রে যাওয়া ও খেটে খাওয়া মানুষেরা।

সকালে কাজের উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে অনেকেই রাস্তায় বাস পাননি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকেরা বৃষ্টির কারণে বাড়তি ভাড়া চেয়েছেন। কোনো কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা থাকায় অটোরিকশার চালকেরা যেতে রাজি হননি। অনেকে গণপরিবহনের অপেক্ষায় থেকে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে ভিজে গেছেন। এ ছাড়া ঢাকা দুই সিটির অনেক এলাকার চলমান বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

কর্মস্থল বারিধারায় যেতে সকাল আটটার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হয়েছিলেন জেসমিন খন্দকার। প্রথমে মোহাম্মদপুরের টাউন হল গিয়ে পাঁচজন অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু বারিধারার নাম শুনে চালকদের কেউ যেতে রাজি হননি। এর বাইরে একজন চালক যেতে রাজি হলেও ভাড়া চেয়েছিলেন তিন গুণ।

আধঘণ্টা চেষ্টার পর টাউন হল থেকে রিকশায় করে তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে যান (আড়ংয়ের উল্টো দিকে) জেসমিন। সেখানে দাঁড়িয়ে উত্তরা-আবদুল্লাহপুরগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু সব বাসই যাত্রী ভর্তি করে দরজা লাগিয়ে যাচ্ছিল। সংসদের সামনে বাসগুলো থামেনি।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃষ্টিতে বাস-সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিছুই পাইনি। বাসের অপেক্ষায় থেকে বৃষ্টিতে অর্ধেকের বেশি ভিজে গেছে। অফিসে জানিয়ে দিয়েছি, আজ আর যাওয়া সম্ভব না।’

আজ বেলা ১১টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিমালের দুর্বল হয়ে যাওয়ার তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, রিমাল এখন স্থল গভীর নিম্নচাপ হিসেবে যশোর ও এর কাছাকাছি এলাকায় আছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যাবে। আর আরও বৃষ্টি ঝরিয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে।

রিমালের প্রভাবে হওয়া বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক এলাকায় পানি জমে জলজট ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নম্বর, গ্রিনরোড, নিউমার্কেট, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর যাওয়ার রাস্তাসহ পুরান ঢাকার বেশ কিছু নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টিতে নিউমার্কেট, কারওয়ান বাজার এলাকার আশপাশসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ সময় এসব সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ঝোড়ো বাতাসের কারণে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় গাছও ভেঙে পড়েছে। মিরপুর পাইকপাড়া এলাকায় সরকারি ডি টাইপ কোয়ার্টার এলাকায় বড় আকারের একটি কৃষ্ণচূড়াগাছ ঝড়ে ভেঙে গেছে। এ সময় ওই এলাকার চলাচলের সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।

দুপুরে পুলিশের রমনা ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার জয়নুল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, সড়কে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় গাড়ি ধীরগতিতে চলছে। তবে একে যানজট বলা যায় না।

সকাল থেকে মেট্রোরেল চলাচলে বিঘ্ন দেখা দেয়। সকাল থেকে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সকাল ১০টা ৮ মিনিটের দিকে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে একটি মেট্রোরেল ছাড়ে। তবে সেটি চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। অনেকে স্টেশন থেকে ফিরে যান।

শেওড়াপাড়া মেট্রোস্টেশনের নিচে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কথা হয় শাহবাগের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিদিনের মতো আজ সকালে তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য শেওড়াপাড়া মেট্রোস্টেশনে এসে শত শত মানুষের ভিড় দেখেন এবং জানতে পারেন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ। এরপর তিনি স্টেশন থেকে নিচে নেমে কোনো যান পাননি। গণপরিবহনগুলোয় মানুষের ঠাসাঠাসি অবস্থার কারণে তাতে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, হঠাৎ এভাবে মেট্রোরেল বন্ধ হলেও কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে কোনো ঘোষণা দেয়নি। এতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাস্তায় পানি, যানবাহন–সংকট আর বেশি ভাড়ার চাপে নাকাল ঢাকাবাসী

আপডেট সময় ০২:২২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে রাজধানী ঢাকায় আজ সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। একটানা চলা এই বৃষ্টি কখনো বাড়ছে, কখনো কিছুটা কমছে। সঙ্গে রয়েছে ঝোড়ো বাতাস। ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মক্ষেত্রে যাওয়া ও খেটে খাওয়া মানুষেরা।

সকালে কাজের উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে অনেকেই রাস্তায় বাস পাননি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকেরা বৃষ্টির কারণে বাড়তি ভাড়া চেয়েছেন। কোনো কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা থাকায় অটোরিকশার চালকেরা যেতে রাজি হননি। অনেকে গণপরিবহনের অপেক্ষায় থেকে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে ভিজে গেছেন। এ ছাড়া ঢাকা দুই সিটির অনেক এলাকার চলমান বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

কর্মস্থল বারিধারায় যেতে সকাল আটটার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হয়েছিলেন জেসমিন খন্দকার। প্রথমে মোহাম্মদপুরের টাউন হল গিয়ে পাঁচজন অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু বারিধারার নাম শুনে চালকদের কেউ যেতে রাজি হননি। এর বাইরে একজন চালক যেতে রাজি হলেও ভাড়া চেয়েছিলেন তিন গুণ।

আধঘণ্টা চেষ্টার পর টাউন হল থেকে রিকশায় করে তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে যান (আড়ংয়ের উল্টো দিকে) জেসমিন। সেখানে দাঁড়িয়ে উত্তরা-আবদুল্লাহপুরগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু সব বাসই যাত্রী ভর্তি করে দরজা লাগিয়ে যাচ্ছিল। সংসদের সামনে বাসগুলো থামেনি।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃষ্টিতে বাস-সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিছুই পাইনি। বাসের অপেক্ষায় থেকে বৃষ্টিতে অর্ধেকের বেশি ভিজে গেছে। অফিসে জানিয়ে দিয়েছি, আজ আর যাওয়া সম্ভব না।’

আজ বেলা ১১টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিমালের দুর্বল হয়ে যাওয়ার তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, রিমাল এখন স্থল গভীর নিম্নচাপ হিসেবে যশোর ও এর কাছাকাছি এলাকায় আছে। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যাবে। আর আরও বৃষ্টি ঝরিয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে।

রিমালের প্রভাবে হওয়া বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক এলাকায় পানি জমে জলজট ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নম্বর, গ্রিনরোড, নিউমার্কেট, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর যাওয়ার রাস্তাসহ পুরান ঢাকার বেশ কিছু নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টিতে নিউমার্কেট, কারওয়ান বাজার এলাকার আশপাশসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ সময় এসব সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ঝোড়ো বাতাসের কারণে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় গাছও ভেঙে পড়েছে। মিরপুর পাইকপাড়া এলাকায় সরকারি ডি টাইপ কোয়ার্টার এলাকায় বড় আকারের একটি কৃষ্ণচূড়াগাছ ঝড়ে ভেঙে গেছে। এ সময় ওই এলাকার চলাচলের সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।

দুপুরে পুলিশের রমনা ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার জয়নুল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, সড়কে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় গাড়ি ধীরগতিতে চলছে। তবে একে যানজট বলা যায় না।

সকাল থেকে মেট্রোরেল চলাচলে বিঘ্ন দেখা দেয়। সকাল থেকে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সকাল ১০টা ৮ মিনিটের দিকে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে একটি মেট্রোরেল ছাড়ে। তবে সেটি চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। অনেকে স্টেশন থেকে ফিরে যান।

শেওড়াপাড়া মেট্রোস্টেশনের নিচে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কথা হয় শাহবাগের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিদিনের মতো আজ সকালে তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য শেওড়াপাড়া মেট্রোস্টেশনে এসে শত শত মানুষের ভিড় দেখেন এবং জানতে পারেন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ। এরপর তিনি স্টেশন থেকে নিচে নেমে কোনো যান পাননি। গণপরিবহনগুলোয় মানুষের ঠাসাঠাসি অবস্থার কারণে তাতে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, হঠাৎ এভাবে মেট্রোরেল বন্ধ হলেও কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে কোনো ঘোষণা দেয়নি। এতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।