বাংলাদেশ আর কখনো কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম বড় অর্জন হলো দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে।’
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’-এর এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই বছর আগের পরিস্থিতির স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানকালেও শিশু-কিশোরদের প্রাণহানি, সরকারের দমন-পীড়ন এবং দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।’ তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এভাবে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা হয়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন সময়ে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বাংলাদেশের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে সহিংসতা কমাতে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতি ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রেখেছিল।
পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘সে সময় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটানো—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরাও সাম্প্রতিক নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য বলে মূল্যায়ন করেছেন, যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
কূটনৈতিক সাফল্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে যে হারিয়ে যেতে বসেছিল, তা আবার পুনর্দখল করছে।’
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তিই হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বাংলাদেশ আর কখনো অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে না।
ডেস্ক রিপোর্ট 




















