ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :
কুষ্টিয়ায় পুুকুরে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু মরদেহ ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবী পরিবারের চল্লিশ উর্ধ বয়সী স্কাউটারদের পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে যাত্রা বেইলি রোডে আগুনে প্রাণ গেল ২ সাংবাদিকের কাচ্চি ভাই নয়, নিচের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত: র‌্যাব বেইলি রোডে আগুন: মৃতের সংখ্যা বাড়ার কারণ জানালেন চিকিৎসক ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামের নির্মাণাধীন হিমাগারের আগুন বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রপতির শোক বেইলি রোডের আগুন লাগা বহুতল ভবনটিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না: প্রধানমন্ত্রী ভবনে ভেন্টিলেশন ছিল না, নিহতরা ধোঁয়ায় মারা গেছেন

প্রাইমারি পাস সজীবের উত্থান তুষারের হাত ধরে

ডেইলী পোস্ট:
একাডেমিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ নয়, প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়েছেন। অথচ তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির পদ বাগিয়েছেন। ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদকের দায়িত্বেও। বলছি কুষ্টিয়ার আলোচিত এসকে সজিবের কথা। শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার পদ্মার চর থেকে মিলন হোসেন নামে যে যুবকের ৯ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয় ওই নৃসংস হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয় তারই নেতৃত্বে। পুলিশের ভাষ্যমতে মিলনের কাছে চাঁদার টাকা না দেয়ায় কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ই-ব্লকে ৬তলা বাড়ির একটি কক্ষে তাকে শ^াসরোধ করে হত্যার পর বাথরুমে তারা পাঁচজন মিলে নৃশংসভাবে ৯টুকরা করে পলিথিন ব্যাগে মুড়িয়ে হরিপুরের পদ্মার দুর্গম চরে পুতে রাখে।
এসকে সজিবের এমন ভয়ানক নৃশংসতা এর আগে কুষ্টিয়ার মানুষ না দেখলেও তার অপকর্ম সম্পর্কে জানা রয়েছে। তার নেতৃত্বে কুষ্টিয়া শহরে গড়ে ওঠে কিশোর গ্যাং। শহরের মোড়ে মোড়ে শতাধিক গ্যাংয়ের সদস্য রয়েছে যারা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসার মত অপরাধে জড়িত। এসব অভিযোগে সজিবের বিরুদ্ধেও কুষ্টিয়া মডেল থানায় অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে। যখন তখন যাকে তাকে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত জখম, লাঞ্ছনার ঘটনা তার কাছে যেন সাধারণ ব্যাপার। বছর দুয়েক আগেও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জকে মারধর করেন। বিশেষ এক নেতার আশির্বাদপুষ্ট হওয়ায় এমন হাজারো অপকর্ম করেও বীরদর্পে ঘুরে বেড়ান সজীব।
প্রশ্ন উঠেছে একাডেমিক শিক্ষায় এগুতে না পারলেও কীভাবে বাগিয়ে নিলেন ছাত্রলীগের মত বড় রাজনৈতিক সংগঠনের পদ? সজিব একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও তার অপকর্ম, তার নেতৃত্ব যে শতাধিক বেপরোয়া কিশোর যুবক মানেন তা নজরে আসে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইয়াছির আরাফাত তুষারের। সংগঠনের সভা সমাবেশে কর্মীদের অংশগ্রহন বাড়াতে তার স্মরণাপন্ন হন তুষার। বিনিময়ে তার বিভিন্ন অপকর্মকে সাপোর্ট করেন। মুলত তুষারের হাত ধরেই রাজনীতিতে নাম লেখালেও তিনি কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার শেল্টারে থাকেন।
কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ জানান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইয়াছির আরাফাত তুষার ভাইয়ের কমিটিতে সহ-সম্পাদক ছিলেন সজিব। পরে আমার (বর্তমান) কমিটিতে সহ-সভাপতি করা হয়। তিনি বলেন প্রস্তাবিত কমিটিতে এসকে সজিবের নাম না থাকলেও কীভাবে সহ-সভাপতির পদ বাগিয়ে নিলেন তা আমার জানা নেই। একাডেমিক সনদ দেখাতে না পারায় তার নাম অন্তর্ভূক্তের বিষয়ে অনেক সুপারিশ আসলেও তার নাম প্রস্তাবিত কমিটিতে দেয়া হয়নি। তবে নানা অপকর্ম এবং সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িতের অভিযোগে তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়।
এ বিষয়ে ইয়াছির আরাফাত তুষার বলেন, সজিব আমার হাত ধরেই ছাত্রলীগে এসেছেন। তিনি কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে পড়েছেন। সনদ না থাকা প্রসঙ্গে তুষার বলেন ভোকেশনাল স্কুল থেকে সজিব পাশ করেছিল মর্মে সনদ দেখানোয় তাকে কমিটিতে রাখা হয়। ৩১ জানুয়ারী মিলন নিখোঁজের পর একাধিকবার তুষারের সাথে সজিবকে দেখা গেছে। এমনকি যে পদ্মার চরে মিলনের খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার হয় সেই ঘটনাস্থলও তুষারের বাড়ির বেশ কাছে।
এদিকে সজিব সম্পর্কে খোঁজ নিতে তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের হাউজিংয়ে সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে এলাকার কেউও তার সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেখাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী জানান সজিব একজন ভয়ংকর প্রকৃতির অপরাধী। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রায়ই যাকে তাকে বাড়িতে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করত। চাঁদা দাবী করত। মাদক ব্যবসা করত। এলাকায় কেউ বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করত। তিনি আরো জানান তার বাবা মিলন শেখ ছিলেন একজন মাদক ব্যবসায়ী। বাবার দেখা পথেই হেঁটেছেন ছেলে সজিবও। বছর তিনেক আগে বাবা মারা যাওয়ার পর সজিব আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সজিবের বাবা মিলন শেখ দ্বিতীয় বিয়ে করায় পরিবার মেনে না নেয়ায় হাউজিং এলাকায় একটি টিনশেড বািড়তে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন সজিব ও তার পরিবার নিয়ে। তাঁর আগে শহরের কালিশংকরপুর এলাকায় বেড়ে ওঠা। মুলত: বস্তিতে বসবাসরত অবস্থায় সব অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন সজিব।
সজিবের বাড়িতে পরিবারের কেউ নেই, বাড়ি তালাবদ্ধ। পুরনো বাড়িতে গিয়ে দেখা হয় তার দাদী রহিমা বেগমের সাথে। আশি বছরের এই বৃদ্ধ জানান সজিব ভালো ছেলে। কিভাবে কি হলো বুঝতে পারছেন না তিনি। তবে সজিবের পড়ালেখা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
সজিবের সেজো চাচী আল্পনা খাতুন জানান সজিব পঞ্চম শ্রেণি পাশ। সিক্স সেভেনের বেশি পড়েনি। এরচেয়ে বেশি কিছু সজিব সম্পর্কে জানেননা বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক প্রতিবেশী জানান সজিব নাকী ছাত্রলীগ করতেন? সেতো পড়ালেখাই করেননি। কীভাবে ছাত্রলীগ করে সে।

দৌলতপুরে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরন

প্রাইমারি পাস সজীবের উত্থান তুষারের হাত ধরে

আপডেট সময় ০৬:৫৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ডেইলী পোস্ট:
একাডেমিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ নয়, প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়েছেন। অথচ তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির পদ বাগিয়েছেন। ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদকের দায়িত্বেও। বলছি কুষ্টিয়ার আলোচিত এসকে সজিবের কথা। শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার পদ্মার চর থেকে মিলন হোসেন নামে যে যুবকের ৯ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয় ওই নৃসংস হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয় তারই নেতৃত্বে। পুলিশের ভাষ্যমতে মিলনের কাছে চাঁদার টাকা না দেয়ায় কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ই-ব্লকে ৬তলা বাড়ির একটি কক্ষে তাকে শ^াসরোধ করে হত্যার পর বাথরুমে তারা পাঁচজন মিলে নৃশংসভাবে ৯টুকরা করে পলিথিন ব্যাগে মুড়িয়ে হরিপুরের পদ্মার দুর্গম চরে পুতে রাখে।
এসকে সজিবের এমন ভয়ানক নৃশংসতা এর আগে কুষ্টিয়ার মানুষ না দেখলেও তার অপকর্ম সম্পর্কে জানা রয়েছে। তার নেতৃত্বে কুষ্টিয়া শহরে গড়ে ওঠে কিশোর গ্যাং। শহরের মোড়ে মোড়ে শতাধিক গ্যাংয়ের সদস্য রয়েছে যারা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসার মত অপরাধে জড়িত। এসব অভিযোগে সজিবের বিরুদ্ধেও কুষ্টিয়া মডেল থানায় অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে। যখন তখন যাকে তাকে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত জখম, লাঞ্ছনার ঘটনা তার কাছে যেন সাধারণ ব্যাপার। বছর দুয়েক আগেও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জকে মারধর করেন। বিশেষ এক নেতার আশির্বাদপুষ্ট হওয়ায় এমন হাজারো অপকর্ম করেও বীরদর্পে ঘুরে বেড়ান সজীব।
প্রশ্ন উঠেছে একাডেমিক শিক্ষায় এগুতে না পারলেও কীভাবে বাগিয়ে নিলেন ছাত্রলীগের মত বড় রাজনৈতিক সংগঠনের পদ? সজিব একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও তার অপকর্ম, তার নেতৃত্ব যে শতাধিক বেপরোয়া কিশোর যুবক মানেন তা নজরে আসে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইয়াছির আরাফাত তুষারের। সংগঠনের সভা সমাবেশে কর্মীদের অংশগ্রহন বাড়াতে তার স্মরণাপন্ন হন তুষার। বিনিময়ে তার বিভিন্ন অপকর্মকে সাপোর্ট করেন। মুলত তুষারের হাত ধরেই রাজনীতিতে নাম লেখালেও তিনি কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার শেল্টারে থাকেন।
কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ জানান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইয়াছির আরাফাত তুষার ভাইয়ের কমিটিতে সহ-সম্পাদক ছিলেন সজিব। পরে আমার (বর্তমান) কমিটিতে সহ-সভাপতি করা হয়। তিনি বলেন প্রস্তাবিত কমিটিতে এসকে সজিবের নাম না থাকলেও কীভাবে সহ-সভাপতির পদ বাগিয়ে নিলেন তা আমার জানা নেই। একাডেমিক সনদ দেখাতে না পারায় তার নাম অন্তর্ভূক্তের বিষয়ে অনেক সুপারিশ আসলেও তার নাম প্রস্তাবিত কমিটিতে দেয়া হয়নি। তবে নানা অপকর্ম এবং সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িতের অভিযোগে তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়।
এ বিষয়ে ইয়াছির আরাফাত তুষার বলেন, সজিব আমার হাত ধরেই ছাত্রলীগে এসেছেন। তিনি কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে পড়েছেন। সনদ না থাকা প্রসঙ্গে তুষার বলেন ভোকেশনাল স্কুল থেকে সজিব পাশ করেছিল মর্মে সনদ দেখানোয় তাকে কমিটিতে রাখা হয়। ৩১ জানুয়ারী মিলন নিখোঁজের পর একাধিকবার তুষারের সাথে সজিবকে দেখা গেছে। এমনকি যে পদ্মার চরে মিলনের খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার হয় সেই ঘটনাস্থলও তুষারের বাড়ির বেশ কাছে।
এদিকে সজিব সম্পর্কে খোঁজ নিতে তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের হাউজিংয়ে সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে এলাকার কেউও তার সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেখাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী জানান সজিব একজন ভয়ংকর প্রকৃতির অপরাধী। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রায়ই যাকে তাকে বাড়িতে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করত। চাঁদা দাবী করত। মাদক ব্যবসা করত। এলাকায় কেউ বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করত। তিনি আরো জানান তার বাবা মিলন শেখ ছিলেন একজন মাদক ব্যবসায়ী। বাবার দেখা পথেই হেঁটেছেন ছেলে সজিবও। বছর তিনেক আগে বাবা মারা যাওয়ার পর সজিব আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সজিবের বাবা মিলন শেখ দ্বিতীয় বিয়ে করায় পরিবার মেনে না নেয়ায় হাউজিং এলাকায় একটি টিনশেড বািড়তে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন সজিব ও তার পরিবার নিয়ে। তাঁর আগে শহরের কালিশংকরপুর এলাকায় বেড়ে ওঠা। মুলত: বস্তিতে বসবাসরত অবস্থায় সব অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন সজিব।
সজিবের বাড়িতে পরিবারের কেউ নেই, বাড়ি তালাবদ্ধ। পুরনো বাড়িতে গিয়ে দেখা হয় তার দাদী রহিমা বেগমের সাথে। আশি বছরের এই বৃদ্ধ জানান সজিব ভালো ছেলে। কিভাবে কি হলো বুঝতে পারছেন না তিনি। তবে সজিবের পড়ালেখা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
সজিবের সেজো চাচী আল্পনা খাতুন জানান সজিব পঞ্চম শ্রেণি পাশ। সিক্স সেভেনের বেশি পড়েনি। এরচেয়ে বেশি কিছু সজিব সম্পর্কে জানেননা বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক প্রতিবেশী জানান সজিব নাকী ছাত্রলীগ করতেন? সেতো পড়ালেখাই করেননি। কীভাবে ছাত্রলীগ করে সে।