ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সারা বিশ্বে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণ কী?

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্বজুড়ে চরমাভাবাপন্ন আবহাওয়া যেন সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিধ্বংসী হ্যারিকেন ও টাইফুন থেকে শুরু করে মারাত্মক খরা, বন্যা, দাবানল, তাপপ্রবাহসহ অনেক অঞ্চল অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এ ঘটনাগুলো যে শুধু মানুষের জীবন ও অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করে তা নয়। বাস্তুতন্ত্র, অর্থনীতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। খবর বিবিসি। 

গত কয়েক বছরে শত শত টর্নেডো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ছে। ব্রাজিল ও কেনিয়ার মানুষকে প্রভাবিত করছে একের পর এক বন্যা।

বিবিসি ওয়েদারের বেন রিচ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন আবহাওয়াকে আরো খারাপ করে তুলতে পারে। এল নিনোর প্রভাব তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা বাড়ে, যা চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার অন্যতম কারণ।’ 

ফিলিপাইন, ভারত, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে রেকর্ড ব্রেকিং তাপমাত্রার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সম্প্রতি লাখ লাখ শিশু স্কুলে যেতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আবহাওয়া শীতল এবং গরম দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষার ব্যবধানকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। 

ফিলিপাইনে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি হওয়ায় শিশুদের বাড়িতে থাকতে এবং দুদিনের জন্য অনলাইন ক্লাস করতে বলা হয়েছিল। আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারিয়েছে ৩৫০ জন। 

ব্রাজিলে বছরের এ সময়ের জন্য ভারি বৃষ্টি অস্বাভাবিক নয়, তবে বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে খারাপ হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্রাজিলে বন্যার পানিতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পোর্তোর জনসংখ্যার চার-পঞ্চমাংশ তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর টর্নেডো বেশ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। 

বিজ্ঞানীরা একমত যে কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। এ কারণেই মূলত ঝড়-তুফানসহ আরো চরম আবহাওয়া তৈরি হতে পারে। তবে এটা বলা কঠিন যে প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই সৃষ্ট।

বেন রিচের মতে, এল নিনো খুবই জটিল বিষয়। আবহাওয়ার ওপর এর বহুবিধ প্রভাব রয়েছে। ব্রাজিলের বন্যা কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার তাপপ্রবাহ এর প্রভাবেই সৃষ্টি হতে পারে। 

দুবাইয়ের সাম্প্রতিক বন্যা নিয়ে গবেষণা করা ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ফ্রেডেরিক অটো বলেছেন, ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন ও উত্তপ্ত বায়ুমণ্ডল বিশ্বব্যাপী আরো শক্তিশালী ঝড় ও বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি করবে।’

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হিসেবে সমুদ্রের উষ্ণায়নকে দায়ী করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পরিষেবা কোপার্নিকাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৪০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গত এপ্রিলে অন্যান্য যেকোনো বছরের এপ্রিলের তুলনায় উষ্ণ ছিল।  

কোপার্নিকাসের পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো বলেন, ‘আটলান্টিক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ হয়েছে। এটি এমন একটি ঘটনা যা শুধু এল নিনোর সঙ্গে যুক্ত নয়, এটি কিছুটা আলাদা।’

ডিপজলের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই চলচ্চিত্র সমিতিতে

সারা বিশ্বে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণ কী?

আপডেট সময় ১২:০৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্বজুড়ে চরমাভাবাপন্ন আবহাওয়া যেন সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিধ্বংসী হ্যারিকেন ও টাইফুন থেকে শুরু করে মারাত্মক খরা, বন্যা, দাবানল, তাপপ্রবাহসহ অনেক অঞ্চল অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এ ঘটনাগুলো যে শুধু মানুষের জীবন ও অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করে তা নয়। বাস্তুতন্ত্র, অর্থনীতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। খবর বিবিসি। 

গত কয়েক বছরে শত শত টর্নেডো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ছে। ব্রাজিল ও কেনিয়ার মানুষকে প্রভাবিত করছে একের পর এক বন্যা।

বিবিসি ওয়েদারের বেন রিচ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন আবহাওয়াকে আরো খারাপ করে তুলতে পারে। এল নিনোর প্রভাব তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা বাড়ে, যা চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার অন্যতম কারণ।’ 

ফিলিপাইন, ভারত, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে রেকর্ড ব্রেকিং তাপমাত্রার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সম্প্রতি লাখ লাখ শিশু স্কুলে যেতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আবহাওয়া শীতল এবং গরম দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষার ব্যবধানকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। 

ফিলিপাইনে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি হওয়ায় শিশুদের বাড়িতে থাকতে এবং দুদিনের জন্য অনলাইন ক্লাস করতে বলা হয়েছিল। আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারিয়েছে ৩৫০ জন। 

ব্রাজিলে বছরের এ সময়ের জন্য ভারি বৃষ্টি অস্বাভাবিক নয়, তবে বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে খারাপ হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্রাজিলে বন্যার পানিতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পোর্তোর জনসংখ্যার চার-পঞ্চমাংশ তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর টর্নেডো বেশ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। 

বিজ্ঞানীরা একমত যে কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। এ কারণেই মূলত ঝড়-তুফানসহ আরো চরম আবহাওয়া তৈরি হতে পারে। তবে এটা বলা কঠিন যে প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই সৃষ্ট।

বেন রিচের মতে, এল নিনো খুবই জটিল বিষয়। আবহাওয়ার ওপর এর বহুবিধ প্রভাব রয়েছে। ব্রাজিলের বন্যা কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার তাপপ্রবাহ এর প্রভাবেই সৃষ্টি হতে পারে। 

দুবাইয়ের সাম্প্রতিক বন্যা নিয়ে গবেষণা করা ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ফ্রেডেরিক অটো বলেছেন, ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন ও উত্তপ্ত বায়ুমণ্ডল বিশ্বব্যাপী আরো শক্তিশালী ঝড় ও বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি করবে।’

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হিসেবে সমুদ্রের উষ্ণায়নকে দায়ী করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পরিষেবা কোপার্নিকাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৪০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গত এপ্রিলে অন্যান্য যেকোনো বছরের এপ্রিলের তুলনায় উষ্ণ ছিল।  

কোপার্নিকাসের পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো বলেন, ‘আটলান্টিক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ হয়েছে। এটি এমন একটি ঘটনা যা শুধু এল নিনোর সঙ্গে যুক্ত নয়, এটি কিছুটা আলাদা।’