ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলকে অবিলম্বে রাফায় অভিযান বন্ধের নির্দেশ আইসিজের

  • আল জাজিরা
  • আপডেট সময় ১০:০৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪
  • 6

ফিলিস্তিনের গাজার রাফা এলাকায় অবিলম্বে অভিযান বন্ধ করতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। একই সঙ্গে গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করতে উপত্যকাটির দক্ষিণের রাফা ক্রসিং খুলে দিতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া গাজায় তদন্তকারীদের অবাধ প্রবেশে বাধা না দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা পালনের অগ্রগতির বিষয়ে এক মাসের মধ্যে আইসিজেতে ইসরায়েলকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছরেই গাজায় প্রাণহানি কমাতে ও মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে তৃতীয় দফায় আদেশ দিলেন ১৫ বিচারপতির এই আদালত। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালতের আদেশ মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে সদস্যদেশগুলোর। তবে আদেশ প্রতিপালনে বাধ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল এই আদালতের নেই।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজের কার্যালয়ে আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা তিনটায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটা) নির্দেশনাগুলো পড়ে শোনান আদালতের প্রেসিডেন্ট নাওয়াফ সালাম। ১০ মে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা একটি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এসব নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। ওই আবেদনে রাফায় ইসরায়েলের অভিযান বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে এ আদালতের কাছে আরজি জানিয়েছিল প্রিটোরিয়া।

দক্ষিণের আফ্রিকার ওই আবেদনের ওপর আইসিজেতে ১৭ ও ১৮ মে শুনানি হয়। এরপরই এসব নির্দেশনা দিলেন আদালত। গাজার অবস্থা ‘বিপর্যয়কর’ উল্লেখ করে নির্দেশনায় বিচারপতি নাওয়াফ সালাম বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই অবিলম্বে রাফায় সামরিক অভিযান বা ফিলিস্তিনিদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ অন্য যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। এসব কর্মকাণ্ড গাজার ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের এমন কোনো পদক্ষেপে গাজার অবকাঠামো পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা ও তদন্তকারীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে আইসিজের প্রেসিডেন্ট বলেন, গাজায় জাতিগত নিধনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তদন্তে সেখানে জাতিসংঘের নির্ধারিত তদন্ত কমিশন বা অনুসন্ধানী দলের অবাধ প্রবেশের সুযোগ করে দিতে হবে ইসরায়েলকে। উপত্যকাটিতে পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশের জন্য দক্ষিণে মিসর সীমান্তের রাফা ক্রসিং খুলে দিতে হবে।

গাজায় সাত মাসের বেশি সময় ধরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি। এ হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে রাফায় আশ্রয় নিয়েছিলেন গাজার বেশির ভাগ বাসিন্দা। তবে ৭ মে থেকে সেখানেও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের হিসাবে, এ অভিযানের মুখে ১৮ মে পর্যন্ত রাফা ছেড়ে পালিয়েছেন আট লাখ ফিলিস্তিনি।

রাফায় অভিযানের কারণে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পক্ষের বিরোধিতার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণ আফ্রিকার করা আবেদনটিও সেই বিরোধিতার পরিপ্রেক্ষিতেই করা হয়েছিল। গাজা অভিযান ঘিরে আইসিজেতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রিটোরিয়ার করা চতুর্থ আবেদন ছিল এটি। এর আগে গত ডিসেম্বরে উপত্যকাটিতে জাতিগত নিধনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল তারা। ওই মামলার রায় পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

এদিকে আইসিজের গতকালের নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নালেডি প্যান্ডোর বলেছেন, গাজায় সংঘাত বন্ধের জন্য আইসিজের সুস্পষ্ট আহ্বান এটি। অপর দিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মরিচ বলেছেন, তাঁরা এ নির্দেশনার সঙ্গে একমত নন।

ইসরায়েলকে অবিলম্বে রাফায় অভিযান বন্ধের নির্দেশ আইসিজের

আপডেট সময় ১০:০৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

ফিলিস্তিনের গাজার রাফা এলাকায় অবিলম্বে অভিযান বন্ধ করতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। একই সঙ্গে গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করতে উপত্যকাটির দক্ষিণের রাফা ক্রসিং খুলে দিতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া গাজায় তদন্তকারীদের অবাধ প্রবেশে বাধা না দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা পালনের অগ্রগতির বিষয়ে এক মাসের মধ্যে আইসিজেতে ইসরায়েলকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছরেই গাজায় প্রাণহানি কমাতে ও মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে তৃতীয় দফায় আদেশ দিলেন ১৫ বিচারপতির এই আদালত। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালতের আদেশ মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে সদস্যদেশগুলোর। তবে আদেশ প্রতিপালনে বাধ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল এই আদালতের নেই।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজের কার্যালয়ে আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা তিনটায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটা) নির্দেশনাগুলো পড়ে শোনান আদালতের প্রেসিডেন্ট নাওয়াফ সালাম। ১০ মে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা একটি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এসব নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। ওই আবেদনে রাফায় ইসরায়েলের অভিযান বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে এ আদালতের কাছে আরজি জানিয়েছিল প্রিটোরিয়া।

দক্ষিণের আফ্রিকার ওই আবেদনের ওপর আইসিজেতে ১৭ ও ১৮ মে শুনানি হয়। এরপরই এসব নির্দেশনা দিলেন আদালত। গাজার অবস্থা ‘বিপর্যয়কর’ উল্লেখ করে নির্দেশনায় বিচারপতি নাওয়াফ সালাম বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই অবিলম্বে রাফায় সামরিক অভিযান বা ফিলিস্তিনিদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ অন্য যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। এসব কর্মকাণ্ড গাজার ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের এমন কোনো পদক্ষেপে গাজার অবকাঠামো পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা ও তদন্তকারীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে আইসিজের প্রেসিডেন্ট বলেন, গাজায় জাতিগত নিধনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তদন্তে সেখানে জাতিসংঘের নির্ধারিত তদন্ত কমিশন বা অনুসন্ধানী দলের অবাধ প্রবেশের সুযোগ করে দিতে হবে ইসরায়েলকে। উপত্যকাটিতে পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশের জন্য দক্ষিণে মিসর সীমান্তের রাফা ক্রসিং খুলে দিতে হবে।

গাজায় সাত মাসের বেশি সময় ধরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি। এ হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে রাফায় আশ্রয় নিয়েছিলেন গাজার বেশির ভাগ বাসিন্দা। তবে ৭ মে থেকে সেখানেও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের হিসাবে, এ অভিযানের মুখে ১৮ মে পর্যন্ত রাফা ছেড়ে পালিয়েছেন আট লাখ ফিলিস্তিনি।

রাফায় অভিযানের কারণে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পক্ষের বিরোধিতার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণ আফ্রিকার করা আবেদনটিও সেই বিরোধিতার পরিপ্রেক্ষিতেই করা হয়েছিল। গাজা অভিযান ঘিরে আইসিজেতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রিটোরিয়ার করা চতুর্থ আবেদন ছিল এটি। এর আগে গত ডিসেম্বরে উপত্যকাটিতে জাতিগত নিধনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল তারা। ওই মামলার রায় পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

এদিকে আইসিজের গতকালের নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নালেডি প্যান্ডোর বলেছেন, গাজায় সংঘাত বন্ধের জন্য আইসিজের সুস্পষ্ট আহ্বান এটি। অপর দিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মরিচ বলেছেন, তাঁরা এ নির্দেশনার সঙ্গে একমত নন।