ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আইসিসিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪
  • 15

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলি করিম খান। ইসরায়েলে হামাসের হামলা এবং এর ধারাবাহিকতায় গাজায় চলমান যুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এ আবেদন করা হয়।

গতকাল সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে করিম খান এসব কথা জানান। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনের বিষয়টি ঘোষণা দেন তিনি।

এ তালিকায় আরও নাম আছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ও হামাসের আরও দুই নেতা—সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মদ দিয়াব ইব্রাহিম আল-মাসরি; যিনি মোহাম্মদ দেইফ নামেই বেশি পরিচিত এবং হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়া। তবে নেতানিয়াহু ও সিনওয়ারের দায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আইসিসির কৌঁসুলি।

এখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এ আবেদনের বিষয়ে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিসির বিচারকদের একটি প্যানেল সিদ্ধান্ত দেবেন।

করিম খান বলেন, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার ঘটনায় সিনওয়ার, হানিয়া ও দেইফের বিরুদ্ধে ‘ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, হত্যা, লোকজন জিম্মি হিসেবে নেওয়া, ধর্ষণ এবং বন্দীদের যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

আইসিসির কৌঁসুলি আরও বলেন, নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করা, মানবিক ত্রাণ সরবরাহ করতে না দেওয়াসহ ক্ষুধাকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার, যুদ্ধে বেসামরিক লোকজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা।

ইসরায়েলি রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আইসিসির পদক্ষেপ গ্রহণ। এতে নেতানিয়াহু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাতারে গিয়ে পড়বেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আইসিসি।

আইসিসি কৌঁসুলি এমন পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন, গত মাসে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইসরায়েলের সরকার ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে ‘ঐতিহাসিক রীতিনীতির ব্যত্যয়’।

নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইসিসির কৌঁসুলি বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল যদি আইসিসির সঙ্গে একমত না হয়, এর এখতিয়ারের বিষয়ে তাদের আপত্তি সত্ত্বেও আদালতে বিচারকদের সামনে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করার স্বাধীনতা তাঁদের আছে। আমি তাদের এটি করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। তবে ২০১৫ সালে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) আইসিসিতে যোগ দেয়। এরপর গাজা, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের ওপর এখতিয়ার দাবি করেন বৈশ্বিক আদালতটি।

আইসিসিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন

আপডেট সময় ১১:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলি করিম খান। ইসরায়েলে হামাসের হামলা এবং এর ধারাবাহিকতায় গাজায় চলমান যুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এ আবেদন করা হয়।

গতকাল সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে করিম খান এসব কথা জানান। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনের বিষয়টি ঘোষণা দেন তিনি।

এ তালিকায় আরও নাম আছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ও হামাসের আরও দুই নেতা—সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মদ দিয়াব ইব্রাহিম আল-মাসরি; যিনি মোহাম্মদ দেইফ নামেই বেশি পরিচিত এবং হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়া। তবে নেতানিয়াহু ও সিনওয়ারের দায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আইসিসির কৌঁসুলি।

এখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এ আবেদনের বিষয়ে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিসির বিচারকদের একটি প্যানেল সিদ্ধান্ত দেবেন।

করিম খান বলেন, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার ঘটনায় সিনওয়ার, হানিয়া ও দেইফের বিরুদ্ধে ‘ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, হত্যা, লোকজন জিম্মি হিসেবে নেওয়া, ধর্ষণ এবং বন্দীদের যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

আইসিসির কৌঁসুলি আরও বলেন, নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করা, মানবিক ত্রাণ সরবরাহ করতে না দেওয়াসহ ক্ষুধাকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার, যুদ্ধে বেসামরিক লোকজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা।

ইসরায়েলি রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আইসিসির পদক্ষেপ গ্রহণ। এতে নেতানিয়াহু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাতারে গিয়ে পড়বেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আইসিসি।

আইসিসি কৌঁসুলি এমন পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন, গত মাসে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইসরায়েলের সরকার ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে ‘ঐতিহাসিক রীতিনীতির ব্যত্যয়’।

নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইসিসির কৌঁসুলি বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল যদি আইসিসির সঙ্গে একমত না হয়, এর এখতিয়ারের বিষয়ে তাদের আপত্তি সত্ত্বেও আদালতে বিচারকদের সামনে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করার স্বাধীনতা তাঁদের আছে। আমি তাদের এটি করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। তবে ২০১৫ সালে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) আইসিসিতে যোগ দেয়। এরপর গাজা, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের ওপর এখতিয়ার দাবি করেন বৈশ্বিক আদালতটি।